
মোঃ শফিকুল ইসলাম সোহেল,সাভার প্রতিনিধি : ১৩ শেষ হয়ে ১৪ বছরে পদার্পণ করল সাভারের রানা প্লাজা ট্রাজেডি। ২০১৩ সালের এই দিনে ঘটে ছিল বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনায়, সেই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ১ হাজার ১৭৫ জন শ্রমিক। ঘটনার এক যুগ পেরিয়ে ১৪ বছরে পা দিলেও আজও শেষ হয়নি মূল মামলার বিচার। মেলেনি ক্ষতিগ্রস্ত সকল শ্রমিকের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ভোর থেকে ঢাকা জেলার সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনের অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে নিহতদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন স্বজন, আহত শ্রমিক এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারা রানা প্লাজা সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধনের আয়োজন করেন।
ভোর থেকেই নিহতদের স্বজনরা ফুল নিয়ে রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপের সামনে জড়ো হতে থাকেন। অনেকে তাদের হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনের ছবি হাতে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। নিহত শ্রমিক আসমার মা সালেহা খাতুন বিলাপ করে বলছিলেন, ১৩টা বছর কাইটা গেল, কিন্তু আমরা বিচার পাইলাম না। সোহেল রানার ফাঁসি না দেইখা মরলে আমার আত্মা শান্তি পাইবো না।
সকাল ৮টার দিকে বিভিন্ন গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সাভার বাসস্ট্যান্ডে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় তারা বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেন, রানা প্লাজা হত্যা মামলার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি করে সোহেল রানাসহ দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি। নিহতদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন। আহত শ্রমিকদের আজীবন সুচিকিৎসার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নেওয়া। ২৪ এপ্রিলকে 'জাতীয় শোক দিবস' এবং 'নিরাপদ কর্মস্থল দিবস' হিসেবে ঘোষণা করা।
এ সময় শ্রমিক নেতারা সমাবেশে বলেন, রানা প্লাজা ট্রাজেডি কোনো দুর্ঘটনা ছিল না, এটি ছিল কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড। ১৩ বছরেও এই হত্যাকাণ্ডের বিচার শেষ না হওয়া শ্রমিক শ্রেণির প্রতি চরম অবজ্ঞা। আমরা আর আশ্বাস চাই না, আমরা বিচার চাই।
শ্রদ্ধা নিবেদনে আসা অনেক আহত শ্রমিক জানান, পঙ্গুত্ব বরণ করার পর তারা আর আগের মতো কাজ করতে পারছেন না। সরকারি ও বেসরকারিভাবে কিছু সহযোগিতা পেলেও দীর্ঘমেয়াদী কোনো পুনর্বাসন ব্যবস্থা না হওয়ায় তাদের জীবন কাটছে চরম অর্থকষ্টে। অনেকের শরীরে এখনো বিঁধে আছে ভবনের লোহার রড বা ইটের টুকরো, যার সুচিকিৎসা করানোর সামর্থ্য তাদের নেই।
উল্লেখ্য যে, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকালে সাভার বাসস্ট্যান্ডের পাশের ৯ তলা রানা প্লাজা ভবনটি ধসে পড়ে। এই ঘটনায় হওয়া হত্যা মামলা ও ইমারত নির্মাণ আইনের মামলার বিচার এখনো ঝুলে আছে। সাক্ষ্য গ্রহণের দীর্ঘসূত্রতা ও আইনি জটিলতায় বিচার প্রক্রিয়া থমকে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীরাও।
আজকের এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন এবং সাধারণ নাগরিকরা সংহতি প্রকাশ করে দ্রুত বিচারের দাবি জানান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ রবিউল হাসান
অনলাইন ইনচার্জঃ কবির মাহমুদ
অফিসঃ ফায়েনাজ টাওয়ার, ৮/এ,কালভার্ট রোড,পুরানা পল্টন, ঢাকা