
ডেস্ক রিপোর্টঃ সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার দূর্গম চরাঞ্চলের ৬ ইউনিয়নের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত ও রোগী পরিবহনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া উপহারের দুটি নৌ- এ্যাম্বুলেন্স প্রকৃতপক্ষে কোন কাজেই আসছে না।
দীর্ঘদিন ধরে নৌ- এ্যাম্বুলেন্স দুটি ব্যবহার না করায় অযত্ন - অবহেলায় পড়ে থাকতে থাকতে এখন প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছে। উপরে মরিচা আর ভিতরে ময়লা পড়ে অচল অবস্থায় এ্যাম্বুলেন্স দুটি কাজিপুর সদর ইউনিয়নের মেঘাই নৌ- বন্দরে পড়ে আছে।
জানা যায়, উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬ টি ইউনিয়ন যমুনা নদীর পূর্বপাড়ে অবস্থিত। লোক সংখ্যা বিবেচনায় প্রায় দেড় লক্ষ মানুষের বসবাস চরাঞ্চলে।
দূর্গম এ চরে ৩টি ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু হাসপাতাল, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক থাকলেও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা না থাকায় চরাঞ্চলে বসবাস করা এসব মানুষকে উন্নত স্বাস্থ্যসেবার জন্য প্রায়ই উপজেলা ও জেলা শহরে যেতে হয়। যাতায়াতের জন্য পাড়ি দিতে হয় খরস্রোতা যমুনা। নদী পথে উপজেলা শহরে যেতে এক থেকে দেড় ঘন্টা সময় লাগে আর জেলা শহরে আরও বেশী।
কখনও কখনও গুরুতর অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা যায়, গর্ভবতী মায়েদের আনা নেওয়া সহ রাত বিরাতে পারাপার হওয়া চরাঞ্চলের মানুষের জন্য নিদারুন কষ্ট। এসব কথা বিবেচনা করেই গত ২০১৫-১৬ সালের দিকে প্রধানমন্ত্রী চরাঞ্চলের মানুষের জন্য প্রথমে একটি নৌ এ্যাম্বুলেন্স উপহার দেয় এবং পরবর্তীতে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে আরেকটি দেওয়া হয়। এ্যাম্বুলেন্স দুটি কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর তত্ত্বাবধানে মেঘাই নৌকা ঘাটে রাখা হয় , কিন্তু দীর্ঘ দিন এসব এ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার না করার কারণে নষ্ট হতে বসেছে।
চরাঞ্চলের মানুষের সাথে কথা বলে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে তাদের দূর্ভোগ জানা যায়,কেউ কেউ আবার জানেন ই না যে অসুস্থ অবস্থায় পারাপারের জন্য রয়েছে নৌ এ্যাম্বুলেন্স।
নিশ্চিন্তপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খাইরুল কবির বলেন," এ্যাম্বুলেন্স এর বিষয়টি জানা আছে তবে বিগত ৫-৬ বছরের মধ্যে আমার ইউনিয়ন থেকে এই সেবা কেউ পায়নি, অনেক দরিদ্র রোগী বিপদের মুহুর্তে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে স্প্রীড বোর্ডে রোগি আনা নেওয়া করেছে, এই সেবা থেকে বঞ্চিত হবার কারণে"।
নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান চাঁন বিএসসি বলেন, " রোগী পারাপারের কঠিন তম সময়েও আমরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি"।
কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোমেনা পারভীন পারুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের নৌ এ্যাম্বুলেন্সটি অকেজো হয়ে পড়েছে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের এ্যাম্বুলেন্সটি সচল আছে। গত ৭/৮ মাস আগে এটি সংস্কার করা হয়েছে। সরকারি ভাবে নৌ- এ্যাম্বুলেন্স এর জন্য তেল অথবা সমপরিমাণ অর্থ বরাদ্দ না থাকায় এর মাধ্যমে সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি লিখিতভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ রবিউল হাসান
অনলাইন ইনচার্জঃ কবির মাহমুদ
অফিসঃ ফায়েনাজ টাওয়ার, ৮/এ,কালভার্ট রোড,পুরানা পল্টন, ঢাকা