
মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম,ভোলাহাট(চাঁপাইনবাবগঞ্জ)প্রতিনাধিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় ইরি-বোরো ধান কাটা, মাড়াই ও গোলাজাত করণ প্রায় শেষ। ঘন ঘন বর্ষণ ও প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে কৃষকেরা আত্মসংগ্রামের মধ্য দিয়ে ধান ঘরে তুলছেন। তবে শ্রমিক সঙ্কট, অতিরিক্ত মজুরী ও বর্ষণের ফলে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
চলতি ২০২৫-২০২৬ বৎসরে উপজেলায় ইরি-বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬,১৭৫ হেক্টর। এর মধ্যে উফশী ৫,৯৩৫ হেক্টর ও হাইব্রীড ২৪০ হেক্টর। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪২,৬১০ মেট্রিক টন, আর চাউলে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৮,৪০৬ মেট্রিক টন। আর এই মওসুমে সেচ ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত হয়েছে ২৪৬ টি বিদ্যুতায়িত গভীর নলকূপ। এসটিডব্লিউ ছিল ১৮০ টি ও এলএলপি ছিল ২০০ টি। এর মধ্যে ডিজেল চালিত মেসিনও ছিল। এ ছাড়াও ২৩৬ টি এলএলপি নদী থেকে বা জলাশয় থেকে ভাসান পানি সরবরাহ করেছে। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ সুলতান আলী এই তথ্য জানিয়েছেন।
বুকভরা আশা নিয়ে আবহমান ধারায় ধান চাষ করেছিলেন কৃষকেরা। জমিতে ধান হয়েছিল ভাল। বাম্পার ফলনের সম্ভাবনাও ছিল। ধান কাটতে শুরু করেছিলেন কৃষকেরা। কিন্তু বিধিবাম! এরই মধ্যে বাধ সাধলো বৃষ্টি আর মেঘের ঘনঘটা। ঝড়-বৃষ্টি ও মৃদু শিলাবৃষ্টিও আঘাত হানে মাঠের কতক স্থানে। জমিতে পানি জমে যওয়ায় ও ধান গাছ মাটিতে পড়ে যাওয়ায় ধান কাটতে কৃষকেরা বাধাগ্রস্ত হন। জমিতে দীর্ঘ সময় ধান পড়ে রইল। পানিতে ভিজে বহু ধান নষ্ট হল। নষ্ট হল খড়। শ্রমিক সঙ্কট প্রকট হয়ে দেখা দিল। শ্রমিকের মজুরী বেড়ে দিন প্রতি ৫-৬শ' টাকার স্থলে ১২০০ টাকা পর্যন্ত দাঁড়াল। আবার ১০০ কেজি ধানের বিপরীতে ২০ কেজি পারিশ্রমিক দাঁড়াল ৩০ কেজি থেকে ৪০ কেজি। প্রাকৃতিক ও সামাজিক প্রতিকূল পরিস্থিতির শিকার হয়ে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যদি উপজেলা প্রশাসন শ্রমিকের মজুরী নির্ধারণ করে দিতেন , তাহলে কৃষকেরা অনেকটাই ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতেন। বৃষ্টিজনিত দুর্যোগে ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিঘাপ্রতি সর্বনিম্ন ফলন হয়েছে ১৩-১৪ মণ [৪০ কেজি হিসাবে]; আর সর্বোচ্চ ফলন হয়েছে ২০-২২ মণ। কৃষি বিভাগ ধান ও চাল উৎপাদনের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ছিল তা পূর্ণ হবে না বলেই সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ রবিউল হাসান
অনলাইন ইনচার্জঃ কবির মাহমুদ
অফিসঃ ফায়েনাজ টাওয়ার, ৮/এ,কালভার্ট রোড,পুরানা পল্টন, ঢাকা