
ইনকিয়াদ আহম্মেদ রাফিন,ঝিকরগাছা উপজেলা প্রতিনিধিঃ
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ৮ নম্বর নির্বাসখোলা ইউনিয়নের আশিংড়ী, শিওরদাহ ও নন্দীডুমুরিয়া গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত একটি পুরাতন খালের পানিপ্রবাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা। তাদের আশঙ্কা, খালের একটি অংশে মাছ চাষের জন্য নির্মিত অবকাঠামোর কারণে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়াবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় আশিংড়ী, শিওরদাহ, নন্দীডুমুরিয়া ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের অন্যতম মাধ্যম ছিল খালটি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খালের বিভিন্ন অংশ ভরাট ও সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় এর স্বাভাবিক প্রবাহ আগের তুলনায় কমে গেছে বলে এলাকাবাসীর দাবি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আশিংড়ী গ্রামের বাসিন্দা মোহাব্বত আলী নন্দীডুমুরিয়া মৌজা এবং পার্শ্ববর্তী নাভারণ ইউনিয়নের বায়সা মৌজায় অবস্থিত আফিল ফার্ম সংলগ্ন সরকারি কালভার্টের নিচে প্রাচীর নির্মাণ করে মাছ চাষ করছেন। এতে বর্ষাকালে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, প্রতিবছর বর্ষার অতিরিক্ত পানি এই খাল দিয়ে দ্রুত নিষ্কাশিত হতো। কিন্তু বর্তমানে পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হলে কৃষিজমিতে পানি জমে থাকা, ফসলের ক্ষতি এবং গ্রামীণ সড়ক ও বসতবাড়িতে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
নন্দীডুমুরিয়া ও আশিংড়ী গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, বর্ষা মৌসুমে পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত না হলে তিন থেকে চারটি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধতার কবলে পড়তে পারে। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বাড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাব্বত আলী বলেন, “এটি খাল দখল করে নতুন কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। প্রায় ২৫-২৬ বছর আগে থেকেই এখানে পুকুর রয়েছে। খালটি অনেক আগেই ভরাট হয়ে গেছে। এছাড়া আশপাশে আরও অনেকেই মাটি দিয়ে নালা ও বাঁধ তৈরি করেছেন। বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করার আগে সরেজমিনে এসে বাস্তব অবস্থা দেখে যাওয়ার অনুরোধ করছি।”
এ বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাফফাত আরা সাঈদ বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে স্থানীয়রা খালটির বর্তমান অবস্থা তদন্ত করে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাদের মতে, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হলে সম্ভাব্য জলাবদ্ধতা ও কৃষি ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ রবিউল হাসান
অনলাইন ইনচার্জঃ কবির মাহমুদ
অফিসঃ ফায়েনাজ টাওয়ার, ৮/এ,কালভার্ট রোড,পুরানা পল্টন, ঢাকা