সদ্যপ্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তার নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ স্বজনরা।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে প্রবেশ করেন তারা। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম জিয়ার সমাধিতে ফুলের তোড়া দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো শেষে দোয়া ও মোনাজাত করেন স্বজনরা।
পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে সকাল সাড়ে দশটার দিকে জাইমা রহমান জিয়া উদ্যানে পৌঁছান। তার সঙ্গে পরিবারের মোট ২০ জন সদস্য ছিলেন। তারা সেখানে দীর্ঘ সময় মোনাজাতে শামিল হন। জিয়ারত শেষে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে তারা সেখান থেকে ফিরে যান।
কবর জিয়ারতের সময় তাদের স্থির ও শান্ত থাকতে দেখা গেছে। জাইমা রহমানের সঙ্গে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমানসহ পরিবারের নিকটাত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় জাইমা রহমান ছাড়ও উপস্থিত ছিলেন, বেগম জিয়ার বোন সেলিনা ইসলাম, ছোট পুত্রবধূ শর্মিলা রহমানসহ আরও অনেকে।
এদিকে শীত ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে ছুটির দিন সকাল থেকেই ‘আপসহীন নেত্রীর’ সমাধিস্থলে আসছেন নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। পুষ্পস্তবক অর্পণের পাশাপাশি তার জন্য দোয়া ও মোনাজাত করছেন সবাই।
এ সময় সমাধিস্থলে কোরআন তেলাওয়াত চলতে দেখা যায়। পাশাপাশি জিয়া উদ্যানের সমাধি কমপ্লেক্স এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাচ্ছেন দলের কর্মী ও গণপূর্ত অধিদফতরের কর্মীরা।
এদিন জুমার নামাজের পর বেগম জিয়ার মাগফেরাতের জন্য মসজিদে মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও তার আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গত বুধবার থেকে সরকার ঘোষিত তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক শেষ হচ্ছে আজ। রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজও বাংলাদেশের সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রয়েছে।
গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত জটিল ও সংকটাপন্ন। চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ভোর ৬টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন।
৩১ ডিসেম্বর বিকেল ৩টার পরপরই রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সংলগ্ন বিশাল এলাকায় খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাজে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক।
এরপর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে তার স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে শায়িত করা হয়। ছেলে তারেক রহমান (বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে মাকে কবরে দাফন করেন। দাফনের আগে সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে মরহুমার প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়।
এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া এভিনিউ সংলগ্ন বিশাল এলাকায় খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ রবিউল হাসান
অনলাইন ইনচার্জঃ কবির মাহমুদ
অফিসঃ ফায়েনাজ টাওয়ার, ৮/এ,কালভার্ট রোড,পুরানা পল্টন, ঢাকা