ছাম্মি আহমেদ আজমীর,সিনিয়র রিপোর্টারঃ মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে চলা এক সাহসী বাহিনীর নাম বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। তারই ধরাবাহিকতায় গতি,সেবা ও ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে দিন-রাত ২৪ ঘন্টা সকল দুর্যোগ-দুর্ঘটনায় প্রথম সাড়াপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন সিরাজগঞ্জ সদর,সিরাজগঞ্জ। এখানে দায়িত্ব শুধু একটি পেশা নয় এটি এক অঙ্গীকার এক মানবিক প্রতিশ্রুতি যা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা জুড়ে অবিরামভাবে চলমান। প্রতিদিনের সূচনা হয় ভোরের শীতল আবহে সকাল ৬টায় পিটি ক্লাসের মাধ্যমে। কঠোর শারীরিক অনুশীলনের মধ্য দিয়ে ফায়ার ফাইটাররা নিজেদের প্রস্তুত করে তোলেন যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য।সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত রুল কলে দিনের দায়িত্ব বণ্টন নির্দেশনা ও প্রস্তুতির বিষয়গুলো নিশ্চিত করা হয়।
এরপর শুরু হয় দক্ষতা উন্নয়নের ধারাবাহিক কার্যক্রম। রুটিন অনুযায়ী তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক ক্লাসের মাধ্যমে ফায়ার ফাইটারদের জ্ঞান ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়। আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের ওপর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় যাতে জরুরি মুহূর্তে তারা দ্রুত দক্ষ ও নির্ভুলভাবে কাজ করতে পারেন।
এই স্টেশনের কার্যক্রম চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতি মাসেই তারা গণসংযোগ,অগ্নিনির্বাপনি মহড়া,টপোগ্রাফি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক নানা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্কুল,কলেজ,মাদ্রাসা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে সাধারণ মানুষকে অগ্নি নির্বাপনী প্রশিক্ষণ সহ অগ্নি নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করে তোলেন এবং শেখান দুর্ঘটনা এড়ানোর কৌশল ও বিপদের সময় করণীয়।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই সাহসী যোদ্ধারা কখনো বিশ্রামে থাকেন না। দিন হোক বা গভীর রাত ঝড়-বৃষ্টি কিংবা যেকোনো দুর্যোগে একটি ফোন কল বা সংকেত পেলেই তারা ছুটে চলেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্যের জীবন বাঁচাতে। তাদের এই সার্বক্ষণিক প্রস্তুতি ও ত্যাগই আমাদের সমাজকে করে তোলে আরও নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য।
এবিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর স্টেশন অফিসার শরীফুল ইসলাম বলেন,ফায়ার সার্ভিসে কাজ করা আমাদের কাছে শুধু একটি চাকরি নয় এটি এক গভীর মানবিক অঙ্গীকার। প্রতিটি ডিউটির পেছনে থাকে অসংখ্য মানুষের নিরাপত্তার দায় অসংখ্য পরিবারের স্বপ্ন রক্ষার দায়িত্ব। আমরা যখন ইউনিফর্ম পরি তখন নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ বা আরামের কথা ভাবার সুযোগ থাকে না তখন একটাই লক্ষ্য থাকে মানুষের পাশে দাঁড়ানো।দিন-রাত ঝড়-বৃষ্টি কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ কোনো কিছুই আমাদের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখতে পারে না।একটি কল পেলেই আমরা ছুটে যাই কারণ আমরা জানি সেই মুহূর্তে কেউ আমাদের অপেক্ষায় আছে কেউ বাঁচার আশায় তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে। অনেক সময় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই আগুনের ভেতরে প্রবেশ করতে হয় ধোঁয়ার অন্ধকারে পথ খুঁজে নিতে হয় তবুও আমরা পিছপা হই না।আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি তখনই যখন আমরা একটি জীবন বাঁচাতে পারি একটি পরিবারকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে পারি।সেই মুহূর্তের হাসি, কৃতজ্ঞতা আর চোখের জল এগুলোই আমাদের শক্তি আমাদের অনুপ্রেরণা।
তবে আমরা শুধু দুর্ঘটনার পর কাজ করতে চাই না আমরা চাই দুর্ঘটনা যেন না-ই ঘটে। তাই আমরা নিয়মিত মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করি অগ্নি নিরাপত্তা সম্পর্কে জানাতে চাই যাতে মানুষ নিজেরাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারে। সচেতনতা বাড়লেই কমবে দুর্ঘটনা বাঁচবে অসংখ্য প্রাণ।জনগণের ভালোবাসা,আস্থা ও দোয়া আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়। আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যতদিন দায়িত্বে আছি ততদিন মানুষের পাশে থাকবো মানবতার সেবায় নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে যাবো।একজন ফায়ার ফাইটারের কাছে নিজের জীবনের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে অন্যের জীবন বাঁচানোর দায়িত্ব আর সেই দায়িত্বই আমাদের গর্ব আমাদের পরিচয়।
উল্লেখ্য: ফায়ার সার্ভিসের এই নীরব অক্লান্ত যোদ্ধারা প্রতিদিন নিজেদের উৎসর্গ করছেন মানবতার কল্যাণে। তাদের সাহস,শৃঙ্খলা,দায়িত্ববোধ এবং আত্মত্যাগ নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ রবিউল হাসান
অনলাইন ইনচার্জঃ কবির মাহমুদ
অফিসঃ ফায়েনাজ টাওয়ার, ৮/এ,কালভার্ট রোড,পুরানা পল্টন, ঢাকা