
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার দক্ষিণ চরসাহাভিকারী গ্রামের আলী আহম্মেদ মাস্টার বাড়ির এ কে এম আবদুল হকের পুত্র মনিরুল হক পাশার সহধর্মিণী সুসমিতা আফরোজ নরওয়ের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ-ইস্টার্ন নরওয়ে (USN) থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। গত ২৮ মে ২০২৬ তিনি সফলভাবে গবেষণাকর্মের চূড়ান্ত প্রতিরক্ষা (PhD Defence) সম্পন্ন করে ‘ডক্টর’ উপাধি লাভ করেন।
ড. সুসমিতা আফরোজের গবেষণার বিষয় ছিল জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসাকালীন বিকিরণ (Radiation) গ্রহণের মাত্রা ও সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি মূল্যায়ন। সংশ্লিষ্টদের মতে, তাঁর গবেষণার ফলাফল শিশুদের চিকিৎসায় বিকিরণজনিত ঝুঁকি কমাতে এবং নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষাজীবনে তিনি ধারাবাহিক সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০১৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োমেডিকেল ফিজিক্স বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ২০১৮ সালে নরওয়ের ইউনিভার্সিটি অব বারগেন থেকে মেডিকেল ফিজিক্স বিষয়ে বিশেষায়িত মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পরে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (AIUB)-এর ফ্যাকাল্টি অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে শিক্ষকতা করেন। ২০২১ সালে তিনি নরওয়েতে পিএইচডি গবেষণায় যুক্ত হন।
বর্তমানে ড. সুসমিতা আফরোজ নরওয়ের একটি স্বনামধন্য হাসপাতালে মেডিকেল ফিজিসিস্ট ও গবেষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। ক্যান্সার রোগীদের জন্য রেডিয়েশন থেরাপির নিরাপদ ও কার্যকর প্রয়োগ, চিকিৎসার মানোন্নয়ন এবং বিকিরণজনিত ঝুঁকি হ্রাসে তিনি গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
গবেষণার পাশাপাশি তিনি তিন সন্তানের জননী হিসেবে পারিবারিক দায়িত্বও সমানভাবে পালন করেছেন। পরিবার ও পেশাগত জীবনের মধ্যে সফল ভারসাম্য বজায় রেখে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ অর্জন লাভ করেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ড. সুসমিতা আফরোজ তাঁর নিজ পরিবার এবং স্বামীর পরিবার—উভয় পরিবারের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পরিবারের সদস্যরা এ অর্জনকে শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং পুরো পরিবার ও সমাজের জন্য গৌরবের বিষয় হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে তাঁর স্বামী মনিরুল হক পাশাও জনস্বাস্থ্য ও গবেষণা খাতে কাজ করছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব বারগেন এবং ইউনিভার্সিটি অব অসলো থেকে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেছেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি আইসিডিডিআর,বি ও চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনে গবেষনার সাথে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ এ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডে সিনিয়র সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বর্তমানে তিনি নরওয়ের জাতীয় জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান (Norwegian Institute of Public Health)-এ সিনিয়র উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রাণী ও মানুষের মধ্যে সংক্রমণশীল রোগ (Zoonotic Diseases) এবং ‘ওয়ান হেলথ’ (One Health) বিষয়ক গবেষণার উদ্দেশ্য শিগগিরই তিনি নরওয়ের ইউনিভার্সিটি অব ইনল্যান্ডে পিএইচডি কার্যক্রম শুরু করবেন।
একই পরিবারের দুই গবেষকের এ সাফল্যে সোনাগাজীসহ ফেনী জেলার মানুষের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, তাঁদের এই অর্জন দেশের তরুণ প্রজন্মকে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের মেধা বিকাশে অনুপ্রাণিত করবে।
ড. সুসমিতা আফরোজের পিএইচডি অর্জনে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধব ও শুভানুধ্যায়ীরা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে মানবকল্যাণে তাঁর গবেষণা কার্যক্রম আরও সমৃদ্ধ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ রবিউল হাসান
অনলাইন ইনচার্জঃ কবির মাহমুদ
অফিসঃ ফায়েনাজ টাওয়ার, ৮/এ,কালভার্ট রোড,পুরানা পল্টন, ঢাকা