
আজ হিজরি ১৪৪৮ সনের ১০ মহররম পবিত্র আশুরা। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও শোকের আবহে আশুরা পালিত হচ্ছে। মুসলমানদের কাছে আজকের দিনটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময়। হিজরি ৬০ মতান্তরে ৬১ সনের ১০ মহররম কারবালা প্রান্তরে ধর্মদ্রোহী ও বিশ্বাসঘাতক এজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হন সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-সহ তাঁর পরিবারের সদস্য এবং সঙ্গীরা। যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালনে সরকারি ও বেসরকারিভাবে নানান কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আগে পরে মিলিয়ে দুই দিন রোজা পালনসহ নফল ইবাদতবন্দেগির মাধ্যমে দিনটি পালন করে থাকেন। এ উপলক্ষে শিয়া সম্প্রদায় আজ সকালে রাজধানীর হোসনি দালান, পল্টন ও মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদ থেকে তাজিয়া মিছিল বের করবেন। এজন্য পুলিশ বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশে আজ সরকারি ছুটি। আশুরা উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিভিন্ন ধর্মীয় সামজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভা এবং দেশের মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকা শরিফে ওয়াজ, মিলাদ ও দোয় মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। ইসলামের সুমহান আদর্শের পতাকা সমুন্নত রাখতে কারবালা প্রান্তরে শিশুসন্তান, ভাই, পরিজন ও নবীজির সাহাবিসহ ৭২ জন নির্মমভাবে শাহাদাতবরণ করেন আল্লাহর প্রিয় নবী ও রসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় নাতি ইমাম হোসেন (রা.)। বর্তমান ইরাকের ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে হজরত ইমাম হোসেন (রা.)-কে ১০ দিন ধরে অবরোধ করে রাখার পর নির্মমভাবে হত্যা করে এজিদ বাহিনী। এর আগে তারা এজিদের হাতে বাইয়াত গ্রহণের জন্য একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে ইমাম হোসেনকে চাপ দেয়। কিন্তু একজন বেনামাজি, মদ্যপ, ব্যাভিচারী, রাষ্ট্রীয় আমনতের খেয়ানতকারী ও শরিয়তবিরোধী এজিদকে ইসলামের খলিফা মেনে নিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান। আর এভাবেই ইমাম হোসেন (রা.) মুসলিম জাতির সামনে জুলুম ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে ইসলামের সুমহান আদর্শের পতাকা সমুন্নত রাখার দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠা করে যান।
আশুরার শিক্ষা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায়-রাষ্ট্রপতি : রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বাণীতে বলেন, পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী মানুষকে অন্যায়-অবিচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় এবং সত্য, সুন্দর ও আলোর পথ দেখায়। তিনি বলেন, সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য পবিত্র আশুরা একটি তাৎপর্যময় ও শোকের দিন। ইসলামের ইতিহাসে আশুরা বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার স্মারক হলেও কারবালার প্রান্তরে ইমাম হোসাইন (রা.) ও তাঁর সঙ্গীদের আত্মত্যাগ এ দিনটিকে দিয়েছে অনন্য মর্যাদা ও গভীর মানবিক আবেদন। রাষ্ট্রপতি বলেন, সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামের সুমহান আদর্শ সমুন্নত রাখতে তাঁদের আত্মদান মানবজাতির ইতিহাসে চিরজাগরুক হয়ে থাকবে।
ইসলামে বিভেদ ও বিদ্বেষের কোনো স্থান নেই-প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণীতে বলেন, ইসলামে বিভেদ, হানাহানি, বিদ্বেষ কিংবা সামাজিক বৈরিতার কোনো স্থান নেই। তিনি বলেন, ‘পবিত্র আশুরা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ইসলামের মূল শিক্ষা শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তাই আশুরার মহান শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আসুন আমরা সমাজে সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় করি। একটি ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে নিজেদের আরও নিবেদিত করি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পবিত্র আশুরা ইসলামের ইতিহাসে এটি এক অনন্য তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এটি শুধু শোক ও স্মরণে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সত্য, ন্যায়, ধৈর্য, ত্যাগ ও নৈতিক দৃঢ়তার চিরন্তন শিক্ষা ধারণ করে। তিনি বলেন, কারবালার ঘটনা মানব ইতিহাসের এমন এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়, যা যুগে যুগে মানুষকে সত্যের পক্ষে এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে অনুপ্রাণিত করে আসছে।
মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং আদর্শের প্রতি অবিচল থাকার যে শিক্ষা কারবালা আমাদের দিয়েছে, তা আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরণার উৎস জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ থেকে প্রায় চৌদ্দ শ বছর আগে কারবালার প্রান্তরে হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) তাঁর পরিবারের সদস্য ও বিশ্বস্ত সঙ্গীদের নিয়ে জুলুম, অন্যায় ও স্বৈরাচারের কাছে মাথা নত না করে শাহাদাতের মহান মর্যাদা বরণ করেছিলেন। তাঁর এই আত্মত্যাগ কারবালাকে সত্য ও ন্যায়ের জন্য সংগ্রামের এক অবিনাশী প্রতীকে পরিণত করেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ রবিউল হাসান
অনলাইন ইনচার্জঃ কবির মাহমুদ
অফিসঃ ফায়েনাজ টাওয়ার, ৮/এ,কালভার্ট রোড,পুরানা পল্টন, ঢাকা