
সজিব আহমেদ,ভালুকা (ময়মনসিংহ) ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ভরাডোবা ইউনিয়নে কলকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য ও দূষিত পানিতে ব্যাপক কৃষিজমি বিনষ্ট হওয়ার প্রতিবাদে এবং দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবিতে আজ মঙ্গলবার (১৯ মে, ২০২৬) উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা।
আজ দুপুরের দিকে ভরাডোবা ইউনিয়নের সর্বস্তরের সাধারণ কৃষক ও ভুক্তভোগী জনতা ভালুকা উপজেলা সদরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয় এবং সেখানে এক সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারীরা স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে একটি লিখিত প্রেস রিলিজের মাধ্যমে তাদের দুরাবস্থা ও দাবিদাওয়া তুলে ধরেন।
আন্দোলনরত কৃষকদের অভিযোগ, ভরাডোবা এলাকায় অবস্থিত ‘এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল মিল’ দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের শোধন ছাড়াই একটি অবৈধ ড্রেনেজ লাইনের মাধ্যমে তাদের উৎপাদিত ক্ষতিকর রাসায়নিক বর্জ্য ও দূষিত পানি লোকালয়ে ছেড়ে দিচ্ছে। এই বিষাক্ত বর্জ্য আশপাশের প্রায় ৩৩৫ একর ফসলি জমি, স্থানীয় খাল-বিল ও উন্মুক্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে বিস্তীর্ণ এলাকার মাটির উর্বরতা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে এবং মাঠের পর মাঠ ফসল উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়েছে। একই সাথে তীব্র পরিবেশ দূষণের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন।
সমাবেশে জানানো হয়, ভুক্তভোগী কৃষকেরা ফসলের ক্ষতি ও পরিবেশ বিপর্যয়ের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। দীর্ঘ আন্দোলনের পর অতি সম্প্রতি প্রশাসনিক পর্যায়ে একটি তদন্ত ও সরেজমিন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সরকারি ওই তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে গত ১৫ বছরে কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে মোট ৩৩ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা।
প্রশাসনিক তদন্তের সুপারিশ অনুযায়ী, এই বিশাল আর্থিক ক্ষতির সিংহভাগ অর্থাৎ ৭৫ শতাংশ ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে মূল অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান ‘এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল মিল’। এছাড়া অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ ক্ষতিপূরণের দায় চাপানো হয়েছে অপর প্রতিষ্ঠান ‘মুলতাজিমের আর.এস এগ্রো লিমিটেড’-এর ওপর। তবে তদন্ত শেষ হলেও এখন পর্যন্ত কৃষকেরা কোনো অর্থ হাতে পাননি।
প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে কৃষকেরা প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে বাস্তবায়নের জন্য ৩ দফা দাবি পেশ করেন। তাদের প্রধান দাবি হলো, এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল মিলের যে অবৈধ ড্রেন দিয়ে বর্জ্য নামছে, তা অনতিবিলম্বে কংক্রিট ঢালাই করে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিতে হবে। এছাড়া তদন্ত কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত ৩৩ কোটি ২৮ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণের পুরো অর্থ আগামী পবিত্র ঈদুল আযহার ছুটির আগেই ভুক্তভোগী প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান এভাবে কৃষিজমি ও পরিবেশের ক্ষতি করতে না পারে, সেজন্য স্থায়ী ও টেকসই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
সমাবেশে কৃষকদের পক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্থানীয় প্রতিনিধিরা বলেন, আমরা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সংঘাতে জড়াতে চাই না। আমরা শুধু আমাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন এবং ফসলি জমির ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে চাই। কৃষকের জীবিকা রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য ধরে রাখা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের আইনি দায়িত্ব।
কৃষক নেতারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, পবিত্র ঈদুল আযহার আগে দাবিদাওয়া মেনে নেওয়া না হলে এবং ক্ষতিপূরণ ছাড় না করা হলে, আগামীতে উপজেলার সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে আরও কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সমাবেশ শেষে কৃষকদের একটি প্রতিনিধি দল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ রবিউল হাসান
অনলাইন ইনচার্জঃ কবির মাহমুদ
অফিসঃ ফায়েনাজ টাওয়ার, ৮/এ,কালভার্ট রোড,পুরানা পল্টন, ঢাকা