
মোঃ সাইফুল ইসলাম,নাসিরনগর,ব্রাহ্মণবাড়ীয়া প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি স্থাপনা বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশে ও সড়কের পাশে ও জনসাধারণের চলাচলের রাস্তার পাশে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী এবং দূরপাল্লার যাত্রীরা।
উপজেলার একমাত্র সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ব্যস্ততম সড়কের পাশেই বর্জ্যের উন্মুক্ত স্তূপ তৈরি হওয়ায় একদিকে যেমন তীব্র দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। এছাড়াও মাঝে মধ্যে আবর্জনা পোড়ানোর ধোঁয়ায় মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি আশঙ্কাজনক ভাবে বাড়ছে।
নাসিরনগর উপজেলার সদরে এখন পর্যন্ত কোনো নিজস্ব বা স্থায়ী কোনো ডাম্পিং স্টেশন বা বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট কোন জায়গা গড়ে ওঠেনি। ফলে উপজেলায় প্রতিদিনের বাজার ও গৃহস্থালির টন টন বর্জ্য এনে ফেলা হচ্ছে সড়কের পাশে এবং বাইপাস এলাকার খালি জায়গায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের পাশে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তার পাশে স্তূপকৃত ময়লা-আবর্জনা পচে চারদিকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী যানবাহন ও ব্যক্তিগত গাড়ির যাত্রী এবং চালকদের নাক-মুখ চেপে এই এলাকা পার হতে হয়। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সড়কের পাশে থাকা স্থানীয় ব্যবসায়ী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও পথচারীরা।
দীর্ঘদিনের এই অব্যবস্থাপনার কারণে এলাকায় নানাবিধ চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। ভোগান্তির এখানেই শেষ নয়; সড়কের পাশের এই ময়লার স্তূপের আকার কমাতে প্রায়শই স্থানীয়রা সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর ফলে সৃষ্ট ঘন কালো ধোঁয়া সড়কে ও বাসা বাড়িতে, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে। তীব্র গতির এই সড়কে ধোঁয়ার কারণে চালকদের সামনের পথ দেখতে মারাত্মক বেগ পেতে হয়, যা যেকোন মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চালকেরা। এ বিষয়ে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নাসিরনগরে ময়লা ফেলার কোন জায়গা নেই। প্রতিদিন বাজারের সব ময়লা আবর্জনা এনে সড়কের পাশে ফেলা হচ্ছে। দুর্গন্ধে বাসা- বাড়ি,দোকানে বসে থাকা যায় না, কাস্টমাররাও আসতে চায় না। আমরা দ্রুত এর স্থায়ী সমাধান চাই।"
পরিবেশবিদদের মতে, সড়কের মতো একটি সংবেদনশীল জায়গার পাশে উন্মুক্তভাবে বর্জ্য ফেলা পরিবেশ আইন ও জনস্বাস্থ্যের পরিপন্থী। দ্রুত বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে এই বর্জ্য অপসারণ ও স্থায়ী ল্যান্ডফিল তৈরি করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। তবে যতদিন না স্থায়ী ব্যবস্থা হচ্ছে, ততদিন সড়কের পাশ থেকে ময়লা অপসারণ করে বিকল্প কোনো স্থানে নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ রবিউল হাসান
অনলাইন ইনচার্জঃ কবির মাহমুদ
অফিসঃ ফায়েনাজ টাওয়ার, ৮/এ,কালভার্ট রোড,পুরানা পল্টন, ঢাকা