
ধর্মপাশা) প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের একটি গ্রামে এক কিশোরের (১৭) বিরুদ্ধে সাতবছর বয়সী এক শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। ওই শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। আহত ওই শিশুটিকে বিকেল পৌনে চারটার দিকে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। পরে সেখানকার কর্তব্যরত ডাক্তার শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে নেত্রকোনা জেলা আধুনিক সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
এলাকাবাসী,শিশুটির পরিবার ও ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের একটি গ্রামের বাসিন্দা সাতবছর বয়সী ওই শিশুটি মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা বলে বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে সে নিজ বসতঘর থেকে বের হয়। কিন্তু মাদ্রাসায় না গিয়ে শিশুটি প্রতিবেশির একটি বসতঘরের বারান্দার আশ্রয় নেয়। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মোবাইল দেখানোর কথা বলে প্রতিবেশি এক কিশোর ওই শিশুটিকে পাশের একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যায়। পরে শিশুটিকে ভয় দেখিয়ে জোর পূর্বক ওই পরিত্যক্ত ঘরের চৌকির ওপর ফেলে শিশুটিকে বলাৎকার করে ওই কিশোর। পরে শিশুটি কেঁদে কেঁদে ওই ঘর থেকে বের হয়ে স্থানীয় একজন সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্যকে ঘটনাটি জানায়। এ সময় ওই কিশোরকে চলে যেতে দেখে শিশুটি চিৎকার করে বলে হে আমারে জোর কইরা খারাপ কাম করছে। কিশোরটি তখন তাৎক্ষণিকভাবে দৌড়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় ওই শিশুটিকে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে্র জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।
ধর্মপাশা থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ ইমাম হোসেন জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুবীর সরকার বলেন, ওই শিশুটির পায়ূপথ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আহত শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসা ও ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য নেত্রকোনা জেলা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেছি।
Leave a Reply