
ইনকিয়াদ আহম্মেদ রাফিন,ঝিকরগাছা উপজেলা প্রতিনিধি :
নিরাপদ উৎপাদন ও রপ্তানির লক্ষ্যে, উত্তম কৃষি চর্চার মাধ্যমে যশোরের ঝিকরগাছাতে পটলের চাষ শুরু হয়েছে। ১০ এপ্রিল ( শুক্রবার)সকালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলার পানিসারা ইউনিয়নের বর্ণী গ্রামে উত্তম কৃষি চর্চার (GAP) মাধ্যমে পটল উৎপাদনের লক্ষ্যে একটি ক্লাস্টার প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ আলমগীর হোসেন, যশোর জেলার উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. মোশাররফ হোসেন ও ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ নুরুল ইসলাম। এসময় তারা মাঠ পর্যায়ে চাষাবাদের বিভিন্ন দিক ঘুরে দেখেন এবং কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। “প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশীপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)” প্রকল্পের আওতায় এই ক্লাস্টার প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো পুষ্টি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা। প্রদর্শনীতে তিনজন কৃষক এক একর জমিতে সমন্বিতভাবে পটল চাষ করছেন। এখানে জৈব সার ব্যবহার এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (আইপিএম) প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ উৎপাদন নিশ্চিত করা হচ্ছে। ফলে রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার কমে আসছে এবং উৎপাদিত ফসল ভোক্তাদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত হচ্ছে। পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ আলমগীর হোসেন বলেন, “উত্তম কৃষি চর্চা অনুসরণের মাধ্যমে নিরাপদ ও মানসম্মত ফসল উৎপাদন সম্ভব। বর্তমান সময়ে ভোক্তারা নিরাপদ খাদ্যের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এই ধরনের উদ্যোগ কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করবে এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করবে। তিনি আরও বলেন, ক্লাস্টারভিত্তিক চাষাবাদের ফলে কৃষকদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ে, উৎপাদন খরচ কমে এবং বাজারজাতকরণ সহজ হয়। এতে করে কৃষকের লাভবান হওয়ার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়। এ ধরনের প্রদর্শনীর মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সাথে পরিচিত করা হচ্ছে এবং মাঠ পর্যায়ে তা প্রয়োগে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে করে উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। স্থানীয় কৃষকরাও এ উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কৃষকরা জানান, জৈব সার ও আইপিএম প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ফসলের গুণগত মান বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং উৎপাদন খরচও তুলনামূলকভাবে কম হচ্ছে। ভবিষ্যতে তারা আরও বেশি জমিতে এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। কৃষি সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ ধরনের উত্তম কৃষি চর্চা দেশব্যাপী বিস্তৃত হলে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি বৈদেশিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের চাহিদা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
Leave a Reply