
আমজাদ হোসেন | কুমিল্লা: কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে বাগ্বিতণ্ডা ও ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে দুই সাংবাদিককে আটক ও হাতকড়া পরানোর অভিযোগ উঠেছে। পরে থানায় নিয়ে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বুধবার (১ এপ্রিল) বেলা দুইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক হলেন—দৈনিক আমার শহর পত্রিকার দেবিদ্বার প্রতিনিধি আবদুল আলীম এবং দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার দেবিদ্বার উপজেলা প্রতিনিধি রাসেল সরকার।
সাংবাদিক আবদুল আলীম জানান, তার খালাতো বোনের পরিবারের একটি নামজারির শুনানি উপলক্ষে বুধবার বেলা ১১টার দিকে তিনি ও সাংবাদিক রাসেল সরকার চান্দিনা ভূমি অফিসে যান। বেলা ২টা বাজার কিছু আগে তারা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূরকে জিজ্ঞেস করেন, সেদিন শুনানি হবে কি না।
অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় এসিল্যান্ড উত্তেজিত হয়ে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে আবদুল আলীম তার মোবাইল ফোনে ওই আচরণের গোপনে ভিডিও ধারণ করতে গেলে এসিল্যান্ড বিষয়টি টের পান এবং তার কাছ থেকে ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে বাধা দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
এরপর এসিল্যান্ড পুলিশকে ডাকেন এবং অভিযোগ রয়েছে—তার নির্দেশেই পুলিশ দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে চান্দিনা থানায় নিয়ে যায়।
সাংবাদিকদের দাবি, থানায় নেওয়ার পর তাদের কাছ থেকে জোর করে মোবাইল ফোন নিয়ে লক খুলে গ্যালারিতে থাকা ছবি ও ভিডিও ডিলিট করা হয়। পরে তারা বিষয়টি নিয়ে আর কোনো বাড়াবাড়ি করবেন না—এই মর্মে তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক মুচলেকা নেওয়া হয়।
পরে বিকেল ৪টার দিকে মুচলেকার ভিত্তিতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
আব্দুল আলীম বলেন,
“আমরা একাধিকবার বলেছি আমরা সংবাদকর্মী। কিন্তু পুলিশ সদস্যরা বলেছেন—‘ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ, আমাদের কিছু করার নেই।’ থানায় নিয়ে আমাদের মোবাইল থেকে সব ভিডিও মুছে ফেলা হয়েছে এবং জোর করে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।” যেনো কোনো প্রতিবেদন না করা হয়।
তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“ঘটনাটি পুরোপুরি ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়েছে। আমি তখন একটি শুনানিতে ব্যস্ত ছিলাম। তারা অনুমতি ছাড়াই ভিডিও ধারণ শুরু করেন, এতে আমি বিব্রত হই। পরে পুলিশকে জানানো হয়।”
তিনি আরও বলেন,
“হাতকড়া পরানোর আগ পর্যন্ত আমি জানতাম না তারা সাংবাদিক। পরে বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। ঘটনাটি সমাধান হয়ে যাওয়ার পর অযথা ছড়ানো হচ্ছে।”
ঘটনার পর বুধবার সন্ধ্যায় দুই সাংবাদিকের হাতে হাতকড়া পরিহিত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে কুমিল্লার সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়।
কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী এনামুল হক (ফারুক) বলেন,
“সাংবাদিকেরা সমাজের বিবেক। তাদের হাতে হাতকড়া পরানো আমাদের হৃদয়ে আঘাত করেছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা চাই।”
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন,
“বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সাংবাদিকদের প্রতি আমরা সবসময়ই সম্মান প্রদর্শন করি।”
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সাংবাদিক মহল এটিকে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে এবং দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছে।
Leave a Reply