
মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম,ভোলাহাট,চাঁপাইনবাবগঞ্জ,প্রতিনিধিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার ৩ নম্বর তেলীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত সহকারি শিক্ষক সেলিম রেজার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তদন্ত করেছেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সরকার মোঃ রিয়াজুল ইসলাম।
২০ মে বুধবার ২০২৬ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যলয়ে এ তদন্ত কার্য অনুষ্ঠিত হয়। অভিযুক্ত শিক্ষক সেলিম রেজার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে গ্রুপিং, প্রশ্নপত্র ফাঁস, তার কাছে প্রাইভেট পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষায় নম্বর বেশি দেয়া ও অন্যদের নম্বর কম দেয়া, বেআইনি ভাবে প্রাইভেট টিউশন/কোচিং বাণিজ্য পরিচালনা সহ আরও অনৈতিক আচরণ ঘটিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন ভুক্তভোগী অভিভাবকরা। উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য বরাবর আইনি প্রতিকার চেয়ে আবেদন করা হয়।
সকাল সাড়ে দশটায় ভুক্তভোগী ভিকটিম পক্ষ জবানবন্দী দেয়ার পর আসেন অভিযুক্ত শিক্ষক সেলিম রেজা। সে উপজেলা পরিষদ চত্বরে কিছু ভাড়াটে সন্ত্রাসী, তার কাছে প্রাইভেট পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী ও কিছু মহিলাকে জমায়েত করে যা সেলিম রেজা সরকারী চাকুরী বিধি লঙ্ঘন করে। এর আগে তার অপকর্মের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদ-প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সরকারী চাকুরী বিধি লঙ্ঘন করে ঘটনা ধামাচাপা দিতে সে গত ১৪ মে ২০২৬ নিজ বাস ভবনে বেআইনি ভাবে “সংবাদ সম্মেলন” করে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইব্রাহিম খলিলুল্লাহকে তাৎক্ষণিক ঘটনাটি জানানো হলেও তিনি কৌন ব্যবস্থা নেননি। এদিকে ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিজিয়া খাতুন অভিযোগ করেছেন, অভিযুক্ত শিক্ষক সেলিম রেজা তার কাছে প্রাইভেট পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদেরকে কোন অনুমতি ছাড়াই উপজেলা পরিষদ চত্বরে জমায়েত করে। ফলে স্কুলে ক্লাস নেয়া বাধাগ্রস্ত হয়। অথচ ছাত্র-ছাত্রীরা তদন্ত কার্যে কোন ভিকটিম নয়। প্রধান শিক্ষক এ সংক্রান্ত অভিযোগ শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েছেন। এ দিকে কোমলমতি ছোট ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুল চলাকালীন সময়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে জমায়েত দেখে সাংবাদিক রবিউল ইসলাম ভিডিও ধারণ করতে গেলে অভিযুক্ত শিক্ষক সেলিম রেজা তার ভাড়াটে সন্ত্রাসীদেরকে সাংবাদিকের ওপর লেলিয়ে দেয়। এতে উত্তেজনা ও হট্টগোল বেড়ে গেলে সাংবাদিক রবিউল ইসলাম স্থান ত্যাগ করেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক সেলিম রেজার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, সে শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং, শিক্ষকদের বদলী, ইনক্রিমেন্ট প্রাপ্তি, অবসরকালীন ভাতা সহ বিভিন্ন কাজে দীর্ঘ দিন ধরে শিক্ষা অফিসারদের সাথে দালালী করে আসছিল। সেলিম রেজা শ্রেণিকক্ষে পড়ানোর চেয়ে প্রাইভেট পড়াতেই মনোযোগী ছিল বেশি। লম্পট ও দুর্ধর্ষ চরিত্রের সেলিম এলাকায় ‘লেংটা বাবা’ নামে খ্যাত! কুখ্যাত সেলিমের আচরণে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী, তাকে অন্যত্র পানিসমেন্ট বদলী সহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট জোরদাবী জানিয়েছেন।
Leave a Reply