
আমজাদ হোসেন (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার সুবিল ইউনিয়নে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জুলুস মিয়া (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। কুকুরকে লাথি দেওয়া নিয়ে শুরু হওয়া কথাকাটাকাটি একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং এতে প্রাণ হারান তিনি।
বুধবার (১ এপ্রিল) মাগরিবের পর আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার পূর্ব নারায়নপুর গ্রামের মধ্যপাড়ায় একটি চায়ের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জুলুস মিয়া ওই গ্রামের মৃত সায়েদ আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের সিদ্দিকের ছেলে কামাল (৩৫) একটি কুকুরকে লাথি দিলে এর প্রতিবাদ করেন জুলুস মিয়া। এ নিয়ে প্রথমে দু’জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা দ্রুত হাতাহাতিতে গড়ায়।
একপর্যায়ে সংঘর্ষের সময় কামাল জুলুস মিয়ার অণ্ডকোষে লাথি মারলে তিনি ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সঙ্গে অভিযুক্ত কামালের ভাই আনোয়ার (২৮), আলী আহম্মদ (৩০) ও চাচাতো ভাই ফখরুলের নামও স্থানীয়রা উল্লেখ করেছেন।
নিহতের নাতি আকাশ বলেন,
“চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি দাদা মাটিতে পড়ে আছেন। বাকিরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। তখন একজন দা নিয়ে আমার দিকেও তেড়ে আসে।”
নিহতের ভাতিজা রোমান জানান, জুলুস মিয়ার ৫ ছেলে ও ২ মেয়ে রয়েছে এবং তিনি কৃষিকাজ করে পরিবার চালাতেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
নিহতের বড় ছেলে ইব্রাহিম (১৪) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমার বাবাকে যারা মেরেছে, আমি তাদের বিচার চাই।”
দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনির জানান, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply