
আমজাদ হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার দেবিদ্বারে ভাড়াটিয়া লাইলী আক্তারসহ কয়েকজন মিলে বাড়ির মালিক ফরিদা ইয়াসমিনকে নৃশংসভাবে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে পলিথিনে ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল পুলিশের অভিযানে পলিথিনে মোড়ানো ৯টি প্যাকেট থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হলেও, পরে আজকে আরও দুই প্যাকেট শরীরের অংশ পাওয়া যায়।
এছাড়া বিকেলে অন্য একটি ডোবা থেকে মরদেহের মাথার অংশ ও হাতের কিছু অংশ উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, হত্যার পর দেহের কাটা অংশগুলো পলিথিনে ভরে বাড়ির পাশের ডাস্টবিনে ফেলে যায় ঘাতকরা। *এরই মধ্যে সেই ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজও সামনে এসেছে।*
আজ সকালে ডাস্টবিনে থাকা মরদেহের অংশ স্থানীয়দের নজরে এলে বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে।
এদিকে, আটক লাইলী আক্তারকে নিয়ে বেরিয়ে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। এর আগে শিশু ফাহিমা হত্যা মামলারও আসামি ছিলেন তিনি। *প্রায় চার বছর আগে ওই শিশুকে হত্যার পর বস্তাবন্দি করে কাচিশাইর এলাকার একটি খালে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে লাইলীর বিরুদ্ধে।*
একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফের এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ওঠায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—একটি হত্যা মামলার আসামি কীভাবে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে কারাগার থেকে বেরিয়ে এসে আবারও এমন নৃশংস ঘটনায় জড়ানোর সুযোগ পেলেন?
অন্যদিকে, বাড়ির মালিক ফরিদা ইয়াসমিন হত্যার ঘটনায় লাইলী আক্তার ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় জনতা।
আজ উপজেলা পরিষদ থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবিদ্বার অংশে গিয়ে শেষ হয়।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা লাইলীসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবি জানান।
Leave a Reply