
ধর্মপাশা প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার চামরদানী ইউনিয়নের দক্ষিণ আমজোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত ২৬দিন ধরে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলে আসছে। এতে করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ডেপুটেশনে দেওয়া একজন শিক্ষক ওই বিদ্যালয়টিতে অনুপস্থিত থাকায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
মধ্যনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ আমজোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে চলতি বছরে শিশু শ্রেণিতে নয়জন, প্রথম শ্রেণিতে ১০জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ১০জন, তৃতীয় শ্রেণিতে আট জন, চতুর্থ শ্রেণিতে নয়জন ও পঞ্চম শ্রেণিতে চারজন শিক্ষার্থী রয়েছে। এই বিদ্যালয়টিতে ছয়জন শিক্ষকের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন সহকারী শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস। শিক্ষার্থীদেের পাঠদান কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয় সে জন্য পাশের শাহাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শেখ মহসীন কবীরকে চলতি বছরের ১জানুয়ারি থেকে ৩০জুন পর্যন্ত এই বিদ্যালয়টিতে ডেপুটেশনে দেওয়া হয়। বিদ্যালয়টির ভারপ্রাধ প্রধান শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস চলতি বছরের ১এপ্রিল থেকে ২৭সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাতৃত্বকালীন ছুটিতে চলে যান। এ অবস্থায় চলতি বছরের ২৯জুন সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত আদেশে ডেপুটেশনে থাকা সহকারী শিক্ষক শেখ মহসীন কবীরকে ১জুলাই থেকে ৩১ডিসেম্বর পর্যন্ত পূণরায় এই বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনের আদেশ দেওয়া হয়। একই সময়ের জন্য পাশের রামদীঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পারভীন আক্তারকে এই বিদ্যালয়টিতে ডেপুটেশনে দেওয়া হয়। তিনি ১জুলাই থেকে বিদ্যালয়টিতে সার্বিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। আর সহকারী শিক্ষক শেখ মহসীন কবীর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ না মেনে ডেপুটেশনে বদলি হওয়া বিদ্যালয়টিতে অনুপন্থিত রয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়টিতে একজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চলতে থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যথাযথ পাঠদান পাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের সীমাহীন গাফিলতি ও উদাসীনার কারণে বিদ্যালয়টি দিন দিন খারাপ পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে সৃদৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।
শাহাপুর সরকারি প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক শেখ মহসীন কবীর বলেন,আমার নিজ বিদ্যালয় থেকে দক্ষিণ আমজোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দূরত্ব তিন কিলোমিটার। দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে আমি নিজ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে নিয়োজিত আছি। ডেপুটেশনের আদেশ বাতিলের জন্য আমি খুব শিগগিরই আবেদন করব।
দক্ষিণ আমজোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা রামদীঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পারভীন আক্তার বলেন, গত ১জুলাই থেকে আমাকে একাই এই বিদ্যালয়টির ৫০জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করাতে হচ্ছে। এতে করে সুষ্ঠুভাবে পাঠদান করা সম্ভব হচ্ছে না। একা একা বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমি হিমশিম খাচ্ছি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দিলোয়ার হোসেন বলেন, ডেপুটেশনে দেওয়া সহকারী শিক্ষক শেখ মহসীন কবীর দক্ষিণ আমজোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস বলেন,খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।#
Leave a Reply