
মোঃ ইমরান হোসেন হৃদয়,শার্শা যশোর প্রতিনিধিঃ যশোরের শার্শা উপজেলার বাগুড়ী বেলতলা আমবাজারে আবারও শুরু হয়েছে গুটি আমের জমজমাট বেচাকেনা। মৌসুমের শুরুতেই বাজারে কাঁচা আমের ব্যাপক সরবরাহ থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
বর্তমানে বাজারে কাঁচা আমের দাম মানভেদে প্রতি মণ ৮০০ টাকা থেকে শুরু করে ১২০০, ১৫০০, ১৬০০ এমনকি ভালো মানের আম ১৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আমের আকার, গুণগত মান ও চাহিদার ওপর ভিত্তি করে দামের এই তারতম্য দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যশোর ও সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে চাষিরা তাদের উৎপাদিত আম এই বাজারে নিয়ে আসছেন। একই সাথে দেশের বিভিন্ন জেলা ঢাকা, খুলনা, রাজশাহীসহ দূর-দূরান্তের পাইকারি ব্যবসায়ীরাও এখানে এসে আম ক্রয় করে ট্রাক ও পিকআপে করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করছেন। ফলে বাগুড়ী বেলতলা আমবাজারটি এখন আঞ্চলিক আম বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
বাজারের অন্যতম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান একতা ফল ভান্ডার-এর প্রোপাইটার কামাল মাস্টার জানান, মৌসুমের শুরুতেই বাজারে ভালো আম উঠতে শুরু করেছে। আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকেও প্রতিদিন বিভিন্ন জেলায় আম সরবরাহ করা হচ্ছে। যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে, তাহলে এ বছর ব্যবসা ভালো হবে বলে আশা করছি। আমরা চেষ্টা করি ক্রেতাদের ভালো মানের আম ন্যায্যমূল্যে দিতে।
তিনি আরও বলেন, এই বাজার শুধু ব্যবসার জায়গা নয়, এটি অনেক পরিবারের জীবিকার উৎস। তাই সবাই মিলে সৎভাবে ব্যবসা করা এবং বাজারের সুনাম বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, বাজারের সার্বিক পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে তারা নিয়মিত তদারকি করছেন। যেন কোনো প্রকার ভেজাল, কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত দাম না বাড়ে সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। তারা বলেন,আমরা চাই এই বাজারে আসা প্রতিটি কৃষক ও ব্যবসায়ী ন্যায্য মূল্য পাক এবং ক্রেতারাও যেন সঠিক দামে ভালো মানের আম কিনতে পারেন।
বিক্রেতারা জানান, সারা বছর এই মৌসুমের জন্যই তারা অপেক্ষা করে থাকেন। অনেকেই নিজেদের বাগানের আম বিক্রি করে সংসারের খরচ চালান এবং নতুন করে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেন। তবে তারা আশা করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারে চাহিদা বজায় থাকলে এবারের মৌসুমে ভালো লাভের মুখ দেখবেন।
অপরদিকে ক্রেতা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাগুড়ী বেলতলা বাজারের আমের গুণগত মান ভালো হওয়ায় তারা প্রতিবছর এখানে আসেন। এখান থেকে আম কিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করলে ভালো দাম পাওয়া যায় বলেও জানান তারা।
সব মিলিয়ে, যশোর ও সাতক্ষীরা অঞ্চলের এই ঐতিহ্যবাহী আমবাজারে মৌসুমের শুরুতেই জমে উঠেছে বেচাকেনা, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply