
কে এম শাহীন রেজা,কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি ॥
কুষ্টিয়ায় অস্ত্রোপচারের সময় অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর ৫ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মারা যাওয়া শিশুর নাম তাসনিয়া আফরিন। সে কুমারখালী উপজেলার সানপুকুরিয়া গ্রামের তরিকুল ইসলামের মেয়ে। কুষ্টিয়ায় একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এবং স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সদর উপজেলার মোল্লাতেঘরিয়া এলাকায় একতা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অপারেশন থিয়েটারে তাসমিয়া (০৫) নামের শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে জেলার কুমারখালি উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের সানপুকুড়িয়া গ্রামের তরিকুল ইসলাম তার ৫ বছরের কণ্যার হাতের অপারেশনের জন্য একতা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিকাল ৩টার সময় ভর্তি করে এবং সন্ধ্যা ৭টায় অপারেশন থিয়েটারে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে কয়েকদিন আগে মৃত তাসমিয়ার বাম হাতটি ভেঙে যায়। তরিকুল ইসলামের স্ত্রী সীমা খাতুন জানান, আমার স্বামী পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী, মেয়ের চিকিৎসার জন্য হাতের অপারেশন করানোর জন্য একতা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অপারেশন রুমে নেওয়া হলে আমার মেয়ের মৃত্যু হয়। পরিবার জানায়, সন্ধ্যার পর শিশুটিকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। সেখানে অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।
অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট অ্যানেসথেসিস্ট বলেন, শিশুটির প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষা স্বাভাবিক ছিল। অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর হঠাৎ তার মৃত্যু হয়, যা হৃদ্রোগজনিত কারণেও হতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন। স্বাস্থ্য-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগে ত্রুটি বা নিম্নমানের ওষুধ ব্যবহারের মতো বিভিন্ন কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না তা তদন্ত করা হবে।
অপারেশনের আগেই শিশুর মৃত্যু, প্রতিবাদে এলাকার মানুষ ও রোগীর পক্ষের স্বজনেরা একতা ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঘেরাও করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি তার পুলিশের টিম নিয়ে সেখানে উপস্থিত হোন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রনব কুমার ঘটনাস্থলে পৌছে পরিবেশ শান্ত করার চেষ্টা করেও জনতা দাবি তোলে একতা ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করতে হবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের ব্যাপারে আইনী প্রক্রিয়ার বিষয় জনতাকে অবগত করলে তারা আরোও উত্তেজিত হয়ে পড়ে। এক পর্যায় কয়েকঘন্টা অভিযুক্ত ডা: তাহেরুল আল আমিনকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয় জনতা ও মৃত শিশুর স্বজনেরা। পরে রাত ১২ টার দিকে সেনাবাহিনী,র্যাব, ডিবি পুলিশের যৌথ টিম অভিযুক্ত ডাক্তারকে পুলিশ হেফাজতে পাঠান এবং মৃত তাসমিয়াকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন।
এদিকে মৃত তাসমিয়ার স্বজনেরা অভিযুক্ত ডা: তাহেরুল আল আমিনের শাস্তি দাবি করেন এবং আইন অনুযায়ী উক্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের দাবি তোলেন। সেই সাথে আন্দোলনরত জনতা শ্লোগান দেন, ওই ডাক্তার ও একতা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কঠোর আন্দোলন করা হবে।
Leave a Reply