
মৌলভীবাজারের জুড়ীতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে হাকালুকি হাওরের বোরো ধানের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ করেছেন মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু এমপি। মঙ্গলবার জুড়ী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সংক্রান্ত অনুষ্টানে তাঁর স্ত্রী ফৌজিয়া আহমেদ ও কন্যা ফাতেমা বিনতে আহমেদ সানজিদাকেও অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে অনুদান দিতে দেখা গিয়েছে।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রটোকল বা ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ অনুযায়ী সংসদ সদস্যের (এমপি) স্ত্রী বা কন্যা সরকারি অনুষ্ঠানে অতিথির আসনে বসে অনুদান বিতরণ করার কোনো আইনি বা প্রটোকলগত ভিত্তি নেই।
প্রটোকল বা ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের তালিকায় কেবল নির্দিষ্ট সাংবিধানিক, সরকারি বা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পদমর্যাদা নির্ধারণ করা থাকে। রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ নিরাপত্তা ও আনুষ্ঠানিক নিয়ম থাকলেও, সংসদ সদস্যদের পরিবারের সদস্য বা সন্তানদের জন্য প্রটোকলে কোনো পদের বা আসনের ব্যবস্থা রাখা হয়নি।
সরকারি তহবিল বা প্রকল্প থেকে আসা অনুদান বিতরণের বৈধ অধিকারী হলেন সংশ্লিষ্ট এলাকার নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা (যেমন: ডিসি, ইউএনও) বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মনোনীত ব্যক্তি। কোনো ব্যক্তি কেবল কোনো সংসদ সদস্যের পরিবারের সদস্য বা আত্মীয় হওয়ার সুবাদে সরকারি অর্থ হস্তান্তর বা বিতরণের আইনি ক্ষমতা বা বৈধতা পান না।
মাঠপর্যায়ে কোনো কোনো সরকারি অনুষ্ঠানে বা স্থানীয় প্রশাসনিক কার্যালয়ে সংসদ সদস্যের স্ত্রী বা কন্যাকে অতিথি করা এবং তাদের দিয়ে অর্থ বা অনুদান বিতরণ করানোর মতো ঘটনা ঘটে। এটি সম্পূর্ণভাবে প্রটোকল লঙ্ঘন এবং ক্ষমতার দাপট হিসেবে গণ্য হয়।
সরকারি কার্যবিধি অমান্য করে যদি কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তা (যেমন: ইউএনও বা এসিল্যান্ড) এমপির স্ত্রীকে সরকারি সভায় ‘অতিথি’ হিসেবে আমন্ত্রণ জানান বা প্রটোকল দেন, তবে সেটি সরকারি চাকরির শৃঙ্খলা পরিপন্থী। এ ধরনের প্রটোকল লঙ্ঘনের কারণে অতীতে অনেক সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বদলি বা ব্যবস্থা নেওয়ার নজিরও রয়েছে।
সুতরাং, সংসদ সদস্যের স্ত্রী বা কন্যা যদি সরকারি অনুষ্ঠানে অতিথির চেয়ারে বসেন বা চেক বিতরণ করেন, তবে তা সম্পূর্ণ অননুমোদিত ও ক্ষমতার অপব্যবহার।
Leave a Reply