
একটি শিশুর সুস্থ ও সাবলীল ভাবে বেড়ে উঠার জন্য যে বিষয়টি সবচেয়ে জরুরি সেটি হচ্ছে খেলাধুলা। আমরা জানি খেলাধুলা শিশুদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। খেলাধুলা একদিকে যেমন মানব শরীরকে সুস্থ সবল রাখে তেমনি অন্যদিকে মানসিক তৃপ্তি বা বিনোদন দেয়।
এ ছাড়া খেলাধুলা তরুণ এবং যুবসমাজকে সব খারাপ কাজ থেকে দূরে রাখে। যেমনঃ মাদকদ্রব্য সেবন, মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে গেমস খেলা এবং পর্নোগ্রাফি দেখা।
প্রবীণদের কাছ থেকে এখনও গল্প শোনা যায়, একটা সময় বিকেল বেলা গ্রামের স্কুল কলেজের মাঠ গুলোতে আড্ডা বসত।চারদিকে গোল হয়ে বসে বাদাম খাওয়া আর গল্প করা। এখন আধুনিকতার ছোঁয়ায় শহরের মতো গ্রামেও বাসস্থান নির্মাণ আর যান্ত্রিক পরিবর্তনে মাঠ ঘাট হারিয়ে যাচ্ছে, ফলে যে সময়টাতে মাঠে বসে বাদাম খেতো বন্ধরা মিলে, সেই সময়টাতে কোন পার্কের কোণায় বা স্কুলের ছাদে বসে নেশা করে, অনলাইনে গেমস খেলে।
বর্তমান সময়ের তরুণ-তরুণীরা হেন কোনো নোংরা নেশা নেই যাতে আসক্ত হচ্ছে না। অথচ এই খেলাধুলার মাধ্যমে এসব থেকে দূরে থাকতে পারত আজকের তরুণ ছেলেমেয়েরা। আর কেন আজকের শিশু-কিশোররা খেলাধুলা করতে পারছে না এটা বোধহয় এখন সারা দেশের মানুষ জানে।
ভৌগলিক অবস্থান বিবেচনায় সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলাটি একটি নদীবিধৌত এলাকা।
কাজিপুর পশ্চিমাঞ্চলে খেলাধুলার জন্য বেশ কয়েকটি মাঠ থাকলেও মাঠ বঞ্চিত পূর্ব পার।
৬টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা বিশাল এই অঞ্চলটির কয়েক হাজার শিক্ষার্থী সরাসরি ফুটবল বা ক্রিকেট খেলার সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত।এছাড়াও প্রায় ২৫ হাজার তরুণ ও ছাত্রসমাজ নানাভাবে এই খেলার মাঠের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
প্রতিবছর স্কুল,কলেজ লেভেলে খেলাধুলার আয়োজন থাকে,মাঠের ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকিনিয়ে নদী পারাপার হয়ে অন্যত্র খেলতে যেতে হয়,বিকেলবেলা মাঠের অভাবে ছেলে মেয়েরা খেলতে না পেরে আসক্ত হয়ে পড়ে মোবাইল গেমিংয়ে।একটা সময় অতিরিক্ত মোবাইল আসক্তির কারণে একঘেয়েমি সৃষ্টিহয়, আস্তে আস্তে নেশার দিকে নিয়ে যায় এই আসক্তি।
চরাঞ্চলের তরুণ ও ছাত্রসমাজের বিনোদন ও বিকাশের জন্য অত্যাধুনিক কোন মাঠ না থাকলেও নাটুয়ারপাড়া ডিগ্রি কলেজ মাটি খেলাধুলার জন্য সহায়ক হতে পারে।তবে সেখানেও বাঁধা। সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক সরকার সহ,স্হানীয় এমপি,উপজেলা চেয়ারম্যান এবং রাজনীতিবীদদের কাছে বারবার দারস্থ হয়েও খেলার মাঠের কোন সুরাহা মিলাতে পারেনি ছাত্রসমাজ।। রাস্তার কোলঘেঁষে নির্মিত প্রাচীর,কলেজ প্রাঙ্গণেকরা দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান,আর পুকুরে চাষ করা দেশী বিদেশি মাছ বরাবরই বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে খেলার মাঠ উন্মুক্ত না করার পিছনে।
অথচ কলেজ প্রাঙ্গণে অযাচিতভাবে গড়ে তোলা পুকুরটি ভরাট করেই নির্মিত হতে পারে সুবিশাল খেলার মাঠ। যদিও পুকুরটি শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক না তবুও শুধুমাত্র কলেজ প্রশাসন আর কমিটির অবহেলায় এখনও ভরাট হচ্ছে না মাঠ।
এলাকার আবাল বৃদ্ধ, বণিতা থেকে শুরু করে দলমত নির্বিশেষে সকল স্তরের সাধারণ মানুষসহ শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবী নাটুয়ারপাড়া কলেজ মাঠের পুকুর ভরাট করে খেলাধুলার উপযোগী মাঠ হিসেবে গড়ে তোলা এবং সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উন্মুক্ত রাখা।
লেখকঃ
কবির মাহমুদ
গণমাধ্যমকর্মী
Leave a Reply