
নিজস্ব প্রতিবেদক,সিরাজগঞ্জঃ উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত হাটিকুমরুল ইউনিয়ন শুধু একটি প্রশাসনিক এলাকা নয়; এটি দেশের যোগাযোগ, অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক কৌশলগত অবস্থানের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। পৃথিবীর অন্যতম ব্যস্ত ও বৃহৎ হাটিকুমরুল গোলচত্বরকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই ইউনিয়ন জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্ব বহন করে। ঢাকা উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের সংযোগস্থল হওয়ায় স্থানীয়রা একে “উত্তরবঙ্গের গেটওয়ে” হিসেবে অভিহিত করেন। সলংগা থানার এই ঐতিহ্যবাহী ইউনিয়নটি সিরাজগঞ্জ জেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক গতিপথ নির্ধারণেও দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। কৌশলগত এই অবস্থানের কারণে এখানে নেতৃত্ব মানে শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রভাব ও স্থিতিশীলতার দায়িত্বও।
“প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব কাজ” আলোচনার কেন্দ্রে আব্দুল মজিদ খাঁন
এই গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী, সাবেক যুবদল নেতা এবং সলংগা থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মজিদ খাঁন বর্তমানে পুরো এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
স্থানীয়দের মতে, তিনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাইরে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাস্তব উন্নয়নমূলক কাজ, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন।
৩৯টি গ্রামে উন্নয়নের ধারাবাহিক কার্যক্রম
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নের ৩৯টি গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় তার ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সহযোগিতায় রাস্তা সংস্কার, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ দীর্ঘদিন ধরে চলমান থাকায় গ্রামীণ জনজীবনে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে এলাকাবাসীর অভিমত।
যুবসমাজ, শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে ভূমিকা
যুবসমাজকে সংগঠিত ও ইতিবাচক পথে রাখতে তিনি নিয়মিত খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এতে তরুণদের মধ্যে মাঠমুখী প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সামাজিকভাবে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানে তার নিয়মিত সহযোগিতা রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এসব ধারাবাহিক সহায়তা তাকে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তির পাশাপাশি সমাজসেবক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও তৃণমূলের আস্থা
দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি বিএনপি ও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। একাধিকবার কাউন্সিলের মাধ্যমে সংগঠনের নেতৃত্বেও নির্বাচিত হয়েছেন।
তৃণমূল কর্মীদের মতে, সংগঠনকে সক্রিয় ও শক্তিশালী রাখতে তার ভূমিকা দীর্ঘদিনের এবং ধারাবাহিক।
বিগত ১৭ বছর তিনি তৃণমূল নেতাকর্মীদের খোঁজখবর রেখেছেন, প্রতিটি ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের খোঁজখবর রেখেছেন এবং সকল আন্দোলন সংগ্রামী তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এই এলাকায় গণঅভ্যুত্থান এর সকল আন্দোলন সংগ্রাম সফল হয়েছে। দলীয় প্রোগ্রাম, রাজনৈতিক মামলার হাজিরায় তিনি নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
আন্দোলন সংগ্রামে শুধু তিনি রাজপথে থেকে নেতৃত্ব দেননি ফিনান্সিয়াল ভাবে তিনি সকল দায়িত্ব বহন করেছেন। এছাড়া মাঠে এবং মিছিলের সম্মুখ সারিতে থেকে সকল আন্দোলন সংগ্রামে সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আহত সকল নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন সর্বদা। যার কারণে তৃণমূল নেতা কর্মীর কাছে তিনি আস্থার প্রতীক।
নির্বাচনী ইতিহাস ও রাজনৈতিক সংগ্রাম
মাত্র ৩৩ বছর বয়সে ২০০২ সালে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। পরবর্তীতে আরও একাধিক নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেন।
স্থানীয়দের মতে, সেই সময় থেকেই তিনি ইউনিয়ন রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে থাকেন।
অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা
স্থানীয়ভাবে তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তার পরিচালিত “সুফিয়া ব্রিকস” নামের ইটভাটা দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, তিনি নিজস্ব আয়ের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় রাজনীতিকে কখনো ব্যক্তিগত আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবহার করেননি। বরং দীর্ঘ সময় ধরে নিজের অর্থায়নে সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত থেকেছেন।
পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহারের কোনো প্রতিষ্ঠিত অভিযোগ নেই। এই পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিকেই তার অন্যতম বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা
হাটিকুমরুল ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ মনে করেন, দেশের অন্যতম কৌশলগত এই এলাকায় অভিজ্ঞ, জনসম্পৃক্ত ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব প্রয়োজন।
তাদের মতে, দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে কাজ করা ব্যক্তিদের মধ্য থেকে নেতৃত্ব এলে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর ও গতিশীল হবে। সব মিলিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আব্দুল মজিদ খাঁনকে ঘিরে আলোচনার মূল কারণ তার দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পৃক্ততা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা। অনেকের মতে, তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেলে ইউনিয়নের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও বেগবান হতে পারে। এই কারণে স্থানীয়রা তাকে আগামীতে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান এবং অনেকে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান হিসেবে আব্দুল মজিদ খাঁন কে দেখছেন।
Leave a Reply