
নিউইয়র্কের নির্বাচনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীরা। নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারক পদে সোমা সাঈদ এবং সিটি কাউন্সিলর পদে শাহানা হানিফ বিজয়ী হয়েছেন।
টাঙ্গাইলের সোমা সাঈদ কৈশোরে নিউইয়র্কে পাড়ি জমান। ২০২১ সালে কুইন্স কাউন্টি সিভিল কোর্টের বিচারক নির্বাচিত হন তিনি। এবার স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির শূন্য আসনে মনোনয়ন পান সোমা।
মঙ্গলবার নির্বাচনে জয়ী হওয়ায় তিনি হলেন সেখানকার প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান বিচারপতি।
কুইন্স কাউন্টি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বার্ষিক ‘জুডিশিয়াল কনভেনশনে’ গত ৭ অগস্ট নিউ ইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের (কুইন্স বরো ট্রায়াল কোর্ট বেঞ্চ) পাঁচটি শূন্য আসনে বিচারপতি হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়।
সেখানে পার্টির প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসম্যান গ্রেগরি মিক্স প্রার্থী হিসেবে ইরা গ্রিনবার্গ, সোমা সাঈদ, স্যান্দ্রা পেরেজ, ফ্রান্সেস ওয়াং ও গ্যারি মিরেটের নাম ঘোষণা করেন।
সোমা সাঈদ বলেন, আমার বাবা আফতাব সৈয়দ প্রবাস জীবনে সাংবাদিকতা করেছেন। তার কর্মনিষ্ঠা আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে মানবিক কল্যাণে।
অন্যদিকে, নিউইয়র্ক সিটির কাউন্সিল ডিস্ট্রিক্ট-৩৯ থেকে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচিত হয়ে ইতিহাসের পাতায় আরও একবার নিজের নাম লেখালেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনপ্রতিনিধি শাহানা হানিফ।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেন। জনগণের আস্থা, ভালোবাসা এবং প্রতিনিধিত্বের প্রতিশ্রুতি তাকে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়।
২০২১ সালে প্রথমবার নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম নারী কাউন্সিলর হিসেবে। এবার তার পুনঃনির্বাচন শুধুমাত্র একটি বিজয় নয়, বরং প্রগতিশীল নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন।
নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর বিজয় উল্লাসে কেঁপে ওঠে শাহানার নির্বাচনী সদরদপ্তর। তিনি বলেন, এই জয় শুধু আমার নয়- এটি আমাদের পুরো কমিউনিটির।
তিনি আরও বলেন, এই বিজয়ে প্রমাণ হয়েছে, বৈচিত্র্য ও মর্যাদার সঙ্গে নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব, এবং আমাদের কণ্ঠ চিরকাল প্রাসঙ্গিক থাকবে।
দ্বিতীয় মেয়াদে প্রবেশ করে শাহানা হানিফ অঙ্গীকার করেছেন, আরও বিস্তৃত পরিসরে সামাজিক ন্যায়বিচার, পরিবেশ সুরক্ষা এবং সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে কাজ করব।
Leave a Reply