
ছাম্মি আহমেদ আজমীর : সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী নাট্য সংগঠন নাট্য নিকেতন-এর ২২ বছর পূর্তি উপলক্ষে শুভ উদ্বোধন হয়েছে তিনদিনব্যাপী রবীন্দ্র নাট্যোৎসব ২০২৬।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জ পৌর ভাষানী মিলনায়তনে উৎসবের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবের উদ্বোধনী দিনে নাট্য নিকেতনের সভাপতি দীলিপ গৌর এর সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা শেষে সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিটে মঞ্চস্থ হয় নাট্য নিকেতনের জনপ্রিয় নাটক মহামায়া।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন,নাট্য নিকেতনের সাধারণ সম্পাদক মো: হোসেন আলী ছোট্ট।
এসময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন,নাট্যচর্চা একটি সমাজকে মানবিক,সচেতন ও সংস্কৃতিমনা করে গড়ে তোলে। তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ সাংস্কৃতিক ধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে নাট্য আন্দোলনের বিকল্প নেই। নাট্য নিকেতন দীর্ঘদিন ধরে সিরাজগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করছে যা সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি আরও বলেন,
রবীন্দ্রচেতনার আলো ছড়িয়ে সমাজে অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উৎসবের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন,বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু।এসময় তিনি নাট্য নিকেতনের সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন,শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা একটি সমাজকে আলোকিত করে। নাট্য নিকেতন দীর্ঘ ২২ বছর ধরে যে নিষ্ঠা ও ভালোবাসা নিয়ে নাট্যচর্চা করে যাচ্ছে তা সত্যিই অনুকরণীয়। আগামী দিনেও এই সাংস্কৃতিক ধারা আরও শক্তিশালী হবে বলে আমি আশাবাদী।তিনি আরও বলেন,রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও দর্শন নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের নাট্যোৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)গনপ্রতি রায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাজরান রউফ,সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও নাট্য নিকেতনের উপদেষ্টা ভিপি অমর কৃষ্ণ দাস,বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের প্রেসিডিয়াম সদস্য মমিন বাবু,কথক থিয়েটারের প্রধান পরিচালক হাফিজুর রহমান ছামাদ, প্রসূন থিয়েটার সভাপতি মাহবুবে খোদা টুটুল।
উল্লেখ্য: জবপ্রিয় নাটক ও দলীয় নৃত্যটি ঘিরে নাট্যপ্রেমীদের মাঝে ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস। সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ,সাংস্কৃতিক কর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও নাট্যপ্রেমী দর্শকের উপস্থিতিতে মিলনায়তন প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে। রবীন্দ্রচেতনা,নাট্য আন্দোলন ও সৃজনশীল সাংস্কৃতিক চর্চার ধারাকে আরও বেগবান করতে নাট্য নিকেতনের এ আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংস্কৃতিপ্রেমীরা।
Leave a Reply