
ছাম্মি আহমেদ আজমীর,সিরাজগঞ্জঃ সিরাজগঞ্জে দেবী দূর্গা বরণে মন্ডপ গুলোতে চলছে প্রস্তুতি।শরতের কাশফুল আর প্রতিমা তৈরিতে কারিগরদের ব্যস্ততা জানিয়ে দিচ্ছে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা।এখন শুধু অপেক্ষা ঢাকে কাঠির বারি পড়ার।সেই সাথে ব্যস্ত সময় পার করছেন সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার বাজার ভদ্রঘাট পালপাড়ার প্রতিমা তৈরীর কারিগররা।তাদের নিপুণ হাতে ফুটে উঠছে দেবী দুর্গার রূপ।সময় অল্প থাকায় প্রতিমা তৈরীর কাজ শেষ করতে দিন রাত কাজ করছেন তারা। একমাটি ও দো-মাটির কাজ শেষে ধীরে ধীরে আকার পাঁচ্ছেন দেবী দুর্গা,কার্তিক, গনেশ,লক্ষ্মী,সরস্বতীসহ অন্যান্য প্রতীমার। বর্তমানে কাঁদা মাটির কাজ শেষের দিকে এরপর শুরু হবে রং ও তুলির কাজ। প্রতিটি প্রতিমা তৈরিতে আকার ভেদে শিল্পীরা মজুরি নিচ্ছেন ২৫ থেকে ৬০, ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে বর্তমান বাজার দরের সাথে মজুরি কমে যাওয়ায় হতাশ কারিগররা। প্রতিমা তৈরির কারিগর পলান ও শ্রীকান্ত জানান, প্রতিমা তৈরির ধুম পড়েছে। প্রতিটি বাড়িতেই তৈরি করা হচ্ছে একাধিক দুর্গা প্রতিমা। কারিগরেরা রাত-দিন প্রায় ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা কাজ করছে অর্ডার নেয়া প্রতিমা তৈরি শেষ করতে। এখানে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সমানভাবে কাজ করছে।দেবী মাকে সাজাতে শত ব্যস্ততায়ও যত্ন সহকারে কাজ করা হচ্ছে। হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরির কাজে নিয়োজিত কারিগরদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এমনটাই প্রত্যাশা কারিগরদের। সিরাজগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী সন্তোষ কুমার কানু আজকের দর্পণ কে জানান,ধর্ম যার যার উৎসব সবার এই স্লোগানকে সামনে রেখে এবারো সিরাজগঞ্জ জেলায় ৪৯৯ টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, প্রতিটি মন্ডপেই চলছে সাজসজ্জার কাজ। এছাড়াও প্রতিটি মন্ডপেই সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি মন্দিরের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক নজরদারি রাখতে কাজ করছি। আমরা সম্মানিত জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার সাথে পূজা উদযাপনের জন্য সিরাজগঞ্জ জেলার পরিস্থিতি যাতে স্বাভাবিক থাকে সেটা নিয়ে আলোচনা করেছি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্মানিত নেতৃবৃন্দ সাথে কথা হয়েছে তারা আমাদের কে আশ্বস্ত করেছেন বিভিন্নভাবে পূজা যেনো শুরু থেকে শান্তি ভাবে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই ব্যাপারে তারা সহযোগিতা করবেন। বরাবরের মত এবছরও শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পালিত হবে বলে জানান এই নেতা। সিরাজগঞ্জ জেলার নবাগত পুলিশ সুপার মো:ফারুক হোসেন জানান,দুর্গাপূজার শুরু থেকে বিসর্জন পর্যন্ত সার্বিক নিরাপত্তায় কাজ করবে জেলা পুলিশ সাথে থাকবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা।
Leave a Reply