
ইনকিয়াদ আহম্মেদ রাফিন,ঝিকরগাছা উপজেলা প্রতিনিধি :
যশোর জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে তার সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বলা হয় যশোর শহরের যানজট দূর করতে ফুটপাতে চলমান উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জেলায় অপহরণ বেড়েছে বলে উল্লেখ করে সভায় বলা জয় এটা এলার্মিং। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে কিশোর গ্যাংদের আড্ডাবাজি বন্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সভা থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কমলেশ মজুমদারের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগ উপ-পরিচালক ও যশোর পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার, সিভিল সার্জন ডাক্তার মাসুদ রানা, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাক্তার হুসাইন সাফায়েত, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল, যশোর চেম্বারের সভাপতি মিজানুর রহমান খান, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, মানবাধিক সংগঠন রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক ও লোকসমাজ এর প্রকাশক শান্তনু ইসলাম সুমিত।
সভায় বর্তমান সময়ে শহরে চলমান উচ্ছেদ অভিযান, যানজট সমস্যা, হাসপাতাল ক্লিনিকের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা বিষয়ে আলোকপাত করেন উপস্থিত সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিবর্গরা।
অংশগ্রহণকারীরা বলেন,হাসপাতালগুলোতে দালাল ও সিন্ডিকেট দূর করতে পদক্ষেপ নিতে হবে। অনেক সময় প্রাইভেট ক্লিনিকে প্যাথলজি থাকে না। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ে। মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করা হচ্ছে। এছাড়া, ফুটপাত দখল মুক্ত করার বিষয়ে সাধুবাদ জানান তারা।
সিভিল সার্জন ডাক্তার মাসুদ রানা বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়ম মেনে যশোরের ৮০ শতাংশ হাসপাতাল চলে না। মালিকরা বিভিন্নভাবে স্বাস্থ্য বিভাগকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। এমনকি স্বল্পমূল্যে সিজারের প্রতিযোগিতা চলে হাসপাতালগুলোতে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ যশোরের উপ-পরিচালক ও যশোর পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসান বলেন, ফুটপাত উচ্ছেদ করতে গিয়ে আমরা মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। কাজ করলেও দোষ, না করলেও দোষ। বীরমুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মনি সড়কে (প্যারিস রোড) দোকান বসানোর কারণে প্রতিনিয়ত ছিনতাই, ইভটিজিং হয়। দড়াটানার ভৈরব হোটেল নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তিন বার ভেঙেছি। আর কত বার ভাঙা যায়। আমরাও তো মানুষ। তিনি বলেন, আমরা উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে যাবো। দড়াটানার ফল মার্কেট নিয়ে রাজনৈতিক দলের নেতারা সাংবাদিকরা বলছেন তাদের জন্য সুযোগ দিতে। আমরা কেন ফুটপাত দখলের সুযোগ দেবো। ব্যবসা করতে হলে তারা স্থায়ী দোকান ভাড়া নিয়ে করুক। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার বলেন, জেলার রাজনৈতিক ব্যক্তিরা সচেতন হলে অপরাধ কম হবে। মে মাসে যে খুন হয়েছে রাজনৈতিক অধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে। আমরা কাজ করি বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। আমাদের পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আপনারা যেমন নজর রাখছেন, জবাবদিহি আশা করেন তেমনি অন্যান্য স্টেক হোল্ডারের সাথে কথা বলেন।
Leave a Reply