
ইব্রাহিম আল সোহাগঃ টানটান উত্তেজনা, বিক্ষোভ ও নানা অভিযোগের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন। তবে ভোটের দিনই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা। এতে নির্বাচনী মাঠে কার্যত এককভাবে সক্রিয় রয়েছেন বিএনপিপন্থী প্রার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ৯টায় সমিতির মিলনায়তনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোট শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাত ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে আদালতপাড়ায় বিক্ষোভে নামেন জামায়াত সমর্থিত আইনজীবীরা। তারা নির্বাচন বাতিল ও পুনঃতফসিল ঘোষণার দাবি জানান।
এর আগের দিন জামায়াত সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ’-এর ১২ জন প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। নির্বাচন বাতিল চেয়ে আদালতে আবেদন করা হলেও তা খারিজ হয়ে যায়। পরে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথাও জানান তারা।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের অভিযোগ, তাদের কোনো প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র তুলতেই দেওয়া হয়নি। এ প্রতিবাদে বুধবার আদালতপাড়ায় কালো পতাকা মিছিল ও সমাবেশ করেন তারা। ‘সাধারণ আইনজীবী পরিষদ’-এর ব্যানারে আয়োজিত ওই কর্মসূচি থেকে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন এবং পুনঃতফসিল ঘোষণার দাবি তোলা হয়।
এবারের নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ৯টি পদে একক প্রার্থী থাকায় ওই পদগুলোতে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি ১২টি পদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
তবে নির্বাচন ঘিরে চলমান বিতর্ক ও বর্জনের প্রভাব পড়েছে ভোটকেন্দ্রেও। সংশ্লিষ্টদের মতে, ভোটার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম এবং আইনজীবীদের মধ্যেও উৎসাহ-উদ্দীপনা তেমন চোখে পড়েনি।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ বিরতিহীনভাবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে।
চট্টগ্রামের আইনজীবী অঙ্গনের এই নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিভাজন ও উত্তেজনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে আদালতপাড়ায়।
Leave a Reply