
মাসুদ সরকার ,বেলকুচি,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: ছাত্র-রাজনীতি থেকে আজ বিএনপির নেতৃত্বে অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান সরকার।
সিরাজগঞ্জের বেলকুচির রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছেন অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান সরকার। ছাত্র-রাজনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবন শুরু করে তিনি বিএনপির ইউনিয়ন, থানা, পৌর ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান সরকার ১৯৬৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর বেলকুচি উপজেলার চালা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম মন্তাজ আলী সরকার।
বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৬ সালে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে এম.এস.এস ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৮১ সালে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ১৯৮৬ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ছাত্র-রাজনীতি শেষে তিনি বিএনপির মূলধারার রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৯২ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি বেলকুচি সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এবং একই সময়ে বেলকুচি থানা বিএনপির প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বেলকুচি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি বেলকুচি পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
২০১৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বেলকুচি উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
২০২১ সাল থেকে ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বেলকুচি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং একই সময়ে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির উপদেষ্টা হিসেবে এখনো দায়িত্ব পালন করছেন।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন প্রতিকূলতার কথা তুলে ধরে অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান সরকার বলেন, ২০১৩ সালের ৩ মার্চ তিনি তাঁর নিজ কর্মস্থল বেলকুচি মডেল কলেজে হামলার শিকার
হন। তাঁর দাবি, ওই হামলায় তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বুকে, পিঠে ও শরীরের অন্যান্য স্থানে গুরুতর জখম হয় এবং প্রায় ৪৪ থেকে ৪৫টি সেলাই দিতে হয়। পরে তিনি প্রায় তিন মাস খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান সরকার জানান,২০২৪ সালের ২৪ জুলাই একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করেন। তিনি ওই মামলাকে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের রাজনৈতিক মামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে ৭আগস্ট ২০২৪ সালে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান বলে জানান।
১৯৯৮ – ২০২৬ দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানাপ্রতিকূলতা, সাংগঠনিক দায়িত্ব ও রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তিনি বেলকুচির রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষাক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা রয়েছে। তিনি বেলকুচি মডেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে ২৫-বছর দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাজনৈতিক জীবনের মূল্যায়ন করতে গিয়ে তাঁর অনুসারীরা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন এবং বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে বেলকুচির বিএনপির রাজনীতিতে অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান সরকারের একটি সু-দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিচিতি তৈরি হয়েছে।
তাঁর অনুসারীরা বলেন- দীর্ঘদিন তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন।
প্রতিকূলতার মধ্যেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকা।
– শিক্ষা ও রাজনীতিতে সমান্তরাল অবদান রাখা।
এসব কারণে অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান সরকার আজ বেলকুচির বিএনপির রাজনীতিতে এক সংগ্রামী,
অভিজ্ঞ ও তৃণমূলভিত্তিক নেতৃত্বের প্রতীক।
তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, দলীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানের পাশাপাশি আগামীতে বেলকুচি উপজেলা চেয়ারম্যান-প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম চূড়ান্ত হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে।
Leave a Reply