
আমজাদ হোসেনদেবিদ্বার(কুমিল্লা উত্তর)প্রতিনিধি:কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার মাশিকাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মুক্তল হোসেনের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন বিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। এ সময় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানান আন্দোলনকারীরা।
রবিবার (৫ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে প্রধান শিক্ষকের অপসারণসহ বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ৩০ জুন রাতে উপজেলার গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর ভাড়া বাসায় প্রধান শিক্ষক মুক্তল হোসেনকে স্থানীয়রা আপত্তিকর অবস্থায় আটক করেন। পরে গণপিটুনির পর চিকিৎসার কথা বলে কয়েকজন তাকে ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি জনসম্মুখে আসেননি।
আন্দোলনকারীরা বলেন, প্রবাসী স্বামী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন, তার স্ত্রী অসুস্থ থাকায় তিনি ধর্মভাই হিসেবে মুক্তল হোসেনকে খোঁজখবর নিতে পাঠিয়েছিলেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাপ্রবাহ ও পরিস্থিতি ওই বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন শাকতলা জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আলী আকবর, মো. জহিরুল ইসলাম, মো. মোবারক হোসেন, মো. রিয়াদ হোসেন, মো. সজিব, জামালসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা আরও বলেন, ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ একই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ে ব্যাপক উত্তেজনা, ভাঙচুর, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরে ছাত্রীর বাবার দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে তিনি পুনরায় প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে বহাল হন।
তাদের অভিযোগ, অতীতের অভিযোগের পরও তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সর্বশেষ ঘটনাতেও কয়েকদিন পার হলেও তাকে গ্রেপ্তার কিংবা প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এদিকে, গত ৩০ জুনের ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জাকির হোসেন মোল্লাসহ একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই নারীর বাসায় অভিযুক্ত শিক্ষকের যাতায়াত ছিল। বিষয়টি নজরে রেখে স্থানীয়রা পর্যবেক্ষণ করছিলেন। ঘটনার রাতে তিনি পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে আটক করেন।
তবে এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ বা মামলা করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারলে তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, “ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শোকজের জবাব পাওয়ার পর তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি নিয়ে দেবিদ্বারজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply