
মোঃ সাইফুল ইসলাম, নাসিরনগর, ব্রাক্ষণবাড়ীয়া প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত হাওর পরিদর্শন করলেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। পরিদর্শন করে তিনি বলেছেন, বিএনপি সরকার কৃষকদের মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে। দেশের ৭৫ ভাগ মানুষ কৃষিরসাথে সম্পৃক্ত। তাদের কষ্টে ফলানো ফসল হারানোর বেদনা অনেক। এ সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করা। কৃষকদের উন্নয়নে সরকার বহুমাতৃক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
শনিবার (৯ মে) দুপুরে ব্রাণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার মেদির হাওর পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ।
এসময় তার সাথে স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ হান্নান, জেলা প্রশাসক মো: আবু সাঈদ, নাসিরনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিকেলে নাসিরনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন এর সঞ্চালনায় ও জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জনাব আবু সাঈদের সভাপতিত্বে চেক হস্তান্ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জনাব মোঃ আমিনুর রশিদ,মাননীয় কৃষিমন্ত্রী,প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন,মাননীয় সংসদ সদস্য এম এ হান্নান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন,বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক,জনাব মোঃ আব্দুর রহিম।
চেক হস্তান্তর ও ত্রান বিতরণ অনুষ্ঠানে নিহত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আহাদ মিয়ার পরিবারের হাতে ২ লক্ষ টাকা চেক ও অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে ৩০ কেজি করে চাল ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন মাননীয় কৃষি মন্ত্রী।
কৃষকদের ভেজা ধান সরকারি গোদামে সংগ্রহের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে জেলা পর্যায়ে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের কোটা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পর্যায়ে মাইকিং করে করে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা হবে। কারণ এই সরকার কৃষকদের ন্যায্য মূল্য দিতে চায়।
এছাড়াও কিশোরগঞ্জের অল ওয়েদার রোড সম্পর্কে তিনি বলেন, এই সড়কটির কারণে পানি প্রবাহে বাধাগ্রস্ত হয় কি না তা অনুসন্ধানে একটি উচ্চ পর্যায়ে কমিটি করা হয়েছে। তারা কাজ করছে। যদি কোথাও সমস্যা থাকে সে অনুযায়ী সমাধানে তারা কাজ করবেন।
এদিকে আবহাওয়া অনূকুলে থাকায় এবং ভারি বৃষ্টিপাত না থাকায় মেদির হাওরসহ বিভিন্ন হাওরের পানি অনেকটা কমেছে। হাওরে তলিয়ে থাকা ধানের জমি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। এতে স্বস্তি রয়েছে কৃষকদের মাঝে। আবহাওতা অনূকুলে থাকায় কৃষকরা তাদের কেটে আনা ফসল শুকাতে পারছেন। তবে বেশিরভাগ ধানি জমি পানিতে তলিয়ে থাকায় ধান অনেকটা নষ্ট হওয়ার উপক্রম। এতে কৃষকদের মাঝে রয়েছে হাহাকার। এখন পর্যন্ত ২ হাজর ৫০০ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, চলতি মৌসুমে নাসিরনগর হাওরে ১১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী ভাড়ী বৃষ্টির পানিতে ৩০৫ হেক্টর ধানি জমি তলিয়ে যায়। যার মূল্য প্রায় ১৩ কোটি টাকা। তবে কৃষকরা বলছেন ক্ষতির পরিমান আরো অনেক বেশি।
Leave a Reply