
মিজান রহমান,(কাজিপুর,সিরাজগঞ্জ)
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে যমুনা নদীতে কয়েকদিনের পানি বৃদ্ধিতে শুরু হয়েছে ভাঙন আতঙ্ক।
এরইমধ্যে উপজেলার চরাঞ্চলের নিশ্চিন্তপুর ইউনিয়নের ডিগ্রী দোরতা পয়েন্টে ব্যাপক নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে।গত কয়েক মাসের নদী ভাঙনের ফলে ইতোমধ্যে প্রায় ৫০টি পরিবারের প্রায় দুই হাজারের অধিক মানুষ ঘরবাড়ি, বসতভিটা,জমিজমা হারিয়েছে। নতুন করে ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত্রি যাপন করছে নদী পাড়ের মানুষগুলো।
নদী ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা মেলেনি ঐতিহ্যবাহী ডিগ্রি দোরতা উচ্চ বিদ্যালয়ের। যমুনা নদীর ভাঙনের ভয়াবহতায় বিদ্যালয়টি করালগ্রাসী যমুনার পাড় থেকে মাত্র কয়েক ফুট দূরেই অবস্থান করছে।
২৭শে আগস্ট (রবিবার) সকালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের দুটো ঘর ইতোমধ্যেই স্থানান্তরের জন্য সরানো হচ্ছে। চোখেমুখে স্বপ্ন নিয়ে স্কুলে আসা ছাত্রা স্বপ্নের বিদ্যালয়ের টিনের চালা মাথায় নিয়ে ছুটছে অন্যত্র।
বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনীর এক শিক্ষার্থী বলেন,”স্কুলটা নদী গর্ভে গেলে আমাদের পড়ালেখার অনেক ক্ষতি হবে,আমরা চাই স্কুলটার শেষ রক্ষা হোক’।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতিকুর রহমান নান্নু বলেন,” প্রায় অর্ধশতাধিক বাড়িঘর যমুনা গর্ভে বিলীন হয়েছে। কিছুদিন আগে ভাঙন রোধে কিছু জিও ব্যাগ এসেছিল,কিছু হয়তো ফেলেছে তাতেও ভাঙন রোধ হয়নি। বর্তমানে শুনছি বড় একটা প্রকল্প এসেছে, এটার কাজ শুরু হলে হয়তো স্কুলটা বাঁচতো”।
ডিগ্রি দোরতা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জালাল উদ্দীন মাস্টার বলেন,”আমরা এমপি মহোদয়ের সাথে কথা বলেছি,তিনি ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিয়েছেন। ভাঙন আতঙ্কে ইতোমধ্যে স্কুলের একটা ঘর স্থানান্তর করেছি।
উল্লেখ্য ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৪ সালে বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সরকার প্রতিষ্ঠা করেন।
এলাকাবাসীর দাবী এখনও কোন ব্যবস্থা নিয়ে বিদ্যালয়টিকে টিকানো যায় কিনা।
Leave a Reply