
শত বরেণ্য আর গুনী জনের পদধুলীর ঐতিহ্যবাহী সিরাজগঞ্জ জেলা।জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা কাজিপুর। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এম মনসুর আলী ও সাবেক স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের কারণে সারা বাংলায় এই উপজেলার রয়েছে ব্যাপক সুনাম।
যমুনা নদী বিধৌত কাজিপুর উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬টি ইউনিয়ন নদীর পূর্বপাড়ে। প্রায় দেড় লক্ষাধিক লোকের বসবাস এখানে। বিশাল সংখ্যক এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় কয়েক হাজার মানুষ শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী।
এই কয়েক হাজার মানুষের মধ্যে প্রায় হাজার খানেক মানুষের কল্যাণে কাজ করা,তাদের জীবনমান উন্নয়ন নিয়ে চিন্তা করা, আর দশটা স্বাভাবিক মানুষের মতো করে শিক্ষিত করে তাদেরকেও সমাজের জন্য সম্পদে পরিণত করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করা ব্যক্তিটি ” জাহিদুল হাসান স্বপন “।
জাহিদুল হাসান স্বপন ১৯৮৯ সালের ১৫ই ডিসেম্বর নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নের খাষশুড়িবেড় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
স্বপনের শিক্ষা জীবন শুরু নিজ গ্রামের স্কুলে। স্বপন সিরাজগঞ্জ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৮ সালে এসএসসি,২০১১ সালে এইচএসসি পাশ করেন। এরপর ২০১৫ সালে ডিপ্লোমা শেষ করেন।
মূলত স্কুল জীবন থেকেই অসহায়, হতদরিদ্র মানুষের জন্য কাজ করতেন স্বপন। প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করার চিন্তা ভাবনাটা মূলত পরিবার থেকেই। নিজের আপন ছোট বোন নিলুফা ইয়াসমিন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। নিজের বোনের অসহায়ত্ব স্বপন নিজ চোখে উপলব্ধি করেছে,মূলত তখন থেকেই প্রতিবন্ধীদের নিয়ে তাঁর ভাবনা। ২০১০ সাল থেকে স্বপন প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ শুরু করেন। সে সময়টাতে স্বপনের পরিবারে ছিলো দারিদ্র্যতা, তবুও হার মানেনি সে।
স্বপনের পিতা প্রয়াত ফজলুল হক পুত্রের কাজে সহায়তা ও সাহস যুগিয়েছন,যদিও শুরুতে নানা প্রতিবন্ধকতা ছিলো পদে পদে।
দূর্গম চরাঞ্চলের নাটুয়ারপাড়া, চরগিরিশ, নিশ্চিন্তপুর,খাসরাজবাড়ি,তেকানি ইউনিয়নের নানা বয়সী প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করতে থাকেন স্বপন। ২০১২ প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে কাজ করার জন্য গড়ে তুললেন ” যমুনা প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থা” নামক সামাজিক ও সেচ্ছাসেবী সংগঠন।
সকল বয়সী প্রতিবন্ধীদের জন্য নানা রকম কল্যাণমুখী কাজ করলেও স্বপনের মূল উদ্দেশ্য ছিলো প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে কাজ করা। কিভাবে এই সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করা যায় এসব প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে স্বপনের মনে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালে স্বপন প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য তাঁর প্রয়াত দাদার নামে গড়ে তোলেন একটি ভিন্ন ধর্মী প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়। স্বপনের প্রতিষ্ঠিত ” যমুনা আহাদ আলী শেখ অটিস্টিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়” এ বর্তমানে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করছে। সরকারী কোন সুযোগ সুবিধা না থাকলেও নিজ উদ্যোগ আর নিজের অর্থায়নে স্বপন অনেকটা পথ অতিক্রম করেছে। স্বপনের এই মহা যাত্রায় সারথী হয়ে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী সহযোগিতাও করেছেন নানা ভাবে।স্বপনের পথচলার পুরোটা সময় জুড়ে পাশে থেকে সাহস,শক্তি,সমর্থন আর প্রেরণা জুগিয়েছে তাঁর পরিবার।মা,বাবা,ভাই-বোনের ভালোবাসায় অজোঁপাড়াগায়ের স্বপন জায়গা করে নিয়েছে গ্রাম হতে গ্রামান্তরে।
রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, সমাজসেবক, থেকে শুরু করে সমাজের সর্বপেশার মানুষ স্বপনের এই মহতি কাজের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
স্বপনের মতো এমন মহান মনের মানুষদের জন্য যমুনা পাড়ের অসহায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলো নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে।
এর মধ্যে বিশিষ্ট সাংবাদিক হাবিবুল্লাহ সিদ্দীকিের অবদান ও অনুপ্রেরণা অতুলনীয়।
প্রতিবন্ধীদের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বপন বলেন,”সিরাজগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয়, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন,জেলা ও উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর,উপজেলা চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান সিরাজী, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান চাঁন বিএসসি,নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রহিম সরকার সহ স্হানীয় অনেক মুরব্বি ও সুধী সমাজ আমার এই মানবিক কাজে সহযোগিতা করেছেন।
প্রতিবন্ধীদের কল্যানে আমি আমার জীবনের সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে পাশে থাকতে চাই,তাদের জন্য কাজ করতে চাই। আর দশটা স্বাভাবিক মানুষ ও শিশুদের মতো এসব সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে হাসি ফুটাতে চাই ওদের জীবনে।
Leave a Reply