
সজিব আহমেদঃ ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ধীতপুর গ্রামে স্ট্রোকে আক্রান্ত বাবা মো. নুরুল ইসলাম ওরফে মাসুদ আলমকে জিম্মি করে সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ তুলে তাঁকে উদ্ধার ও সুচিকিৎসা নিশ্চিতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন একমাত্র মেয়ে নাজমিন আক্তার লিজা। সোমবার ৬ জুলাই সকালে ভালুকা প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
লিখিত বক্তব্যে লিজা বলেন, ৫৫ বছর বয়সী তাঁর বাবা নুরুল ইসলাম দুই বছর আগে প্রবাস থেকে দেশে ফেরেন। আড়াই মাস আগে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হন এবং বর্তমানে কথা বলতে অক্ষম অবস্থায় শয্যাশায়ী। এই অসুস্থতার সুযোগে চাচা শামছুদ্দিন, চাচাতো ভাই আপেল মাহমুদ ও আপেলের স্ত্রী নিপু তাঁকে ধীতপুর গ্রামের বাড়িতে জিম্মি করে রেখেছেন।
লিজার অভিযোগ, অভিযুক্তরা কৌশলে তাঁর বাবার কাছ থেকে ফিশারি ও মুরগির খামারে এক কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করান। হিসাব চাইতে গেলে নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি স্ট্রোক করেন। এরপর জমিজমার দলিল, পাসপোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাবাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে এবং পরিবারের সদস্যদের দেখা করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, গত ১৮ মার্চ ও ১৪ এপ্রিল বাবাকে ঘরে আটকে রাখা হলে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি ও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আদালত থেকে সার্চ ওয়ারেন্ট জারি হলেও এখনো তাঁর বাবাকে কার্যকরভাবে উদ্ধার করা যায়নি। এ অবস্থায় বাবার জীবন ও সম্পত্তি নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিজা অবিলম্বে বাবাকে উদ্ধার, সুচিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ সময় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে আপেল মাহমুদ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, নুরুল ইসলামকে আটকে রাখা হয়নি। গত ১১ মাস ধরে তাঁর চিকিৎসা চলছে। সম্পত্তির লোভ থেকেই লিজা এসব অভিযোগ করছেন। চিকিৎসার খরচ মেটাতে বৈধভাবেই কিছু সম্পত্তি লিজ দেওয়া হয়েছে, কোনো সম্পত্তি দখল করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আপেল মাহমুদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ভালুকা মডেল থানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ জানায়, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply