
কাওসার হোসেন মামুন,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধিঃ দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
বুধবার(৩০ জুলাই) দুপুরে খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউসে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটি জেলা পরিষদের সদস্য,জেলা পরিষদে হস্তান্তরিত বিভিন্ন বিভাগের দপ্তর প্রধানের সাথে বক্তব্য গ্রহণ শুরু করে তদন্ত কমিটি। নোটিশ দেওয়া হলেও তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত হননি অভিযুক্ত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা ও তার স্বামী জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রেবিলিয়াম রোয়াজা।
এর আগে গত ৭ জুলাই অসদাচারণ ও দুর্নীতি অভিযোগে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরাকে পরিষদের সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব তাসলীমা বেগম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনায়
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরার বিরুদ্ধে পরিষদের ১৪ জন সদস্য কর্তৃক সদস্যদের অবমূল্যায়ন,খারাপ আচরণ,হস্তান্তরিত বিভাগের বিভাগের প্রধান ও কর্মচারীদের সাথে অসদাচারণ,স্বেচ্ছাচারিতা,স্বজনপ্রীতিসহ শিক্ষক বদলি বাণিজ্য,ঠিকাদার বিলের ফাইল আটকিয়ে রেখে ঘুষ বাণিজ্য ও চরম দুর্নীতির অভিযোগ দাখিল করা হয়।
চিঠিতে অভিযোগের বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সকল প্রকার কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ঘটনা তদন্তে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব অতুল সরকারকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
উল্লেখ, গত বছরের ৭ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব তাসলীমা বেগম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দোসর খ্যাত জিরুনা ত্রিপুরাকে চেয়ারম্যান এবং আরও ১৪ জন সদস্য নিয়ে পুনর্গঠন করা হয় অন্তর্বর্তীকালীন খাগড়াছড়ি পার্বত্য পার্বত্য জেলা পরিষদ। এর তিনদিন পর ১০ নভেম্বর নবনিযুক্ত সদস্যদের নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা।
শুরু থেকে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠে। বড়দিনের খাদ্যশস্য চাউল ও গম বিতরণ না করে আত্মাতের চেষ্টা,শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণের নামে পরিষদ তহবিল থেকে ৩৫ লাখ উত্তোলন করে বিতরণ না করা, উন্নয়ন প্রকল্পের জানানত থেকে উৎকোচের জন্য ফাইল আটকিয়ে রাখা,পরিষদ সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে খেয়াল-খুশিমতো সিদ্ধান্ত গ্রহণ,নিজ দপ্তর ও হস্তান্তরিত ২৪ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তুই-তারাক্কা ব্যবহার,যখন-তখন অফিস আদেশ জারি করে খোদ পরিষদ সদস্যদের হেনস্তা, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে যত্রতত্র গাড়ি ব্যবহার করে সরকারি অর্থ অপচয়,বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে অসংলগ্ন অচারণ,স্বজনপ্রীতি ও নিকটাত্মীয়দের পুনর্বাসনসহ নানা অভিযোগ। এ নিয়ে বাংলাভিশন ডিজিটালে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
Leave a Reply