
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ব্যারিস্টার বাড়িতে জন্ম নেওয়া মোঃ বাদশা ফাহাদ আব্বাসী একজন পরিচিত ছাত্রনেতা, সমাজকর্মী ও তরুণ সংগঠক।
ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক ও শিক্ষানুরাগী পরিবারে বেড়ে ওঠা এই তরুণ নেতা দীর্ঘদিন ধরে ছাত্ররাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
তার পরিবারে একাধিক ব্যারিস্টার, শিক্ষক, প্রফেসর, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রয়েছেন। তার পিতা প্রয়াত স্কুল শিক্ষক আলহাজ্ব আলী মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ মাস্টার শিক্ষাগত ও নৈতিক দিকনির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এছাড়া তিনি প্রখ্যাত ব্যারিস্টার আলী মোহাম্মদ আব্বাস ও আলী মোহাম্মদ আজহার সাহেবের সর্বকনিষ্ঠ ভাতিজা।
শিক্ষাজীবনের শুরু স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে তিনি উপজেলার সলংগা ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তার মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলীর প্রকাশ ঘটে। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়।
২০০৯ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এর ২৮তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় তার জীবন ও কর্ম নিয়ে বক্তব্য দিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন।
পরবর্তীতে সলংগা থানা ছাত্রদলের অন্যতম ছাত্রনেতা আজাদুর রহমান আজাদের নেতৃত্বে তিনি সহপাঠীদের সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রয়াত ছাত্রনেতা মাহবুবুল আলম ওসমান, গোলাম সরোয়ার দুলাল, রঞ্জু আহমেদ ও তারিফ মাহমুদসহ অনেকের সহযোগিতায় সে সময় গঠিত হয় সলংগা হাইস্কুল শাখা ছাত্রদলের কমিটি।
সে কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হন বাদশা ফাহাদ আব্বাসী। তার নেতৃত্বে চড়বেরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নাইমুড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়।
উচ্চমাধ্যমিকে অধ্যয়নকালে তিনি সলংগা ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে সংগঠনের কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পরে ২০১৪ সালে জন্মস্থান চান্দাইকোনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং উপজেলা ছাত্রদলের কার্যক্রমকে গতিশীল করতে কাজ করেন।
দেশের স্বনামধন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি-তে আইন বিষয়ে অধ্যয়নকালেও তিনি রাজধানীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সরকারবিরোধী বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সলংগা অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন তিনি। একই সময়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ভিপি আয়নুল হক-এর পক্ষে এবং ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য প্রার্থীর পক্ষে ঘুড়কা ইউনিয়নজুড়ে দীর্ঘ সময় ধরে প্রচারণা চালান।
২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রয়াত আব্দুল মান্নান তালুকদার-এর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালান এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মসূচিতেও সক্রিয় থাকেন। সে সময় বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনাতেও তিনি প্রত্যক্ষ সাক্ষী হন।
২০২২ সালের ২ ডিসেম্বর সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করেন তিনি। রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে সাহসী ও কর্মনিষ্ঠ নেতা হিসেবে তিনি এলাকায় পরিচিতি লাভ করেন।
ছাত্ররাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় তার বিরুদ্ধে কোনো বিতর্কের অভিযোগ ওঠেনি। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও তিনি স্থানীয় এলাকায় হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার উদ্যোগে পরিচালিত ধানের শীষ প্রতীকের ব্যতিক্রমী প্রচারণা উপজেলাজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ভিপি আয়নুল হকের পক্ষে তিনি তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে প্রচারণা চালান।
ব্যক্তিগত জীবনে বাদশা ফাহাদ আব্বাসী দুই সন্তানের জনক। তিনি চান্দাইকোনা ইউনিয়নের প্রয়াত চেয়ারম্যান হাজী কায়ছার আলীর পুত্র আনোয়ার-উল ইসলাম সরকারের মেজো কন্যার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জ জেলা জজ কোর্টে শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন এবং নির্মাণসামগ্রীর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।
সামাজিক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখতে তিনি ২০১৪ সালে “ফোর্স ফর দ্য হেল্পলেস অব বাংলাদেশ (এফএইচবি)” নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। পাশাপাশি যুবসমাজকে ক্রীড়ামুখী করতে চান্দাইকোনায় প্রতিষ্ঠা করেন “সূর্যসন্তান ক্লাব”।
রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার নেতৃত্ব, সততা এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের মধ্যে তাকে একটি গ্রহণযোগ্য নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বর্তমানে তিনি চান্দাইকোনা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে এলাকায় সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
Leave a Reply