
মোঃ আমজাদ হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার: কুমিল্লাঃ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ঘটেছে এক হৃদয়বিদারক ও ঘৃণিত ঘটনা। মাত্র তিন হাজার টাকার বিনিময়ে নিজের স্ত্রীকে বন্ধুদের হাতে তুলে দিয়েছেন ইটভাটা শ্রমিক রাজু আহমেদ (২৬)। এরপর টানা তিনদিন পালাক্রমে ধর্ষণের শিকার হন ওই নারী। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নিজেই থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাজুসহ পাঁচজনকে আটক করে।
চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের মিরশ্বানী এলাকার ইসলামিয়া ব্রিকস ফিল্ডের শ্রমিকদের থাকার ঘরে।
আটককৃতরা হলেন—
রাজু আহমেদ, বেলাল হোসেন (৩৫), মো. হৃদয় (২৫), মহিন উদ্দিন (২৬) ও আবুল কালাম (৪৫)।
শনিবার বিকেলে পুলিশ তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে বলে নিশ্চিত করেন চৌদ্দগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. গুলজার আলম।
ভুক্তভোগী নারী বিউটি আক্তার (ছদ্মনাম) জানান, মাদকাসক্ত স্বামী রাজুর সাথে বিবাহিত জীবনে অশান্তি চলছিল। সম্প্রতি পারিবারিক বৈঠকের পর স্বামী তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে। ১৫ অক্টোবর কুমিল্লা শহরে থাকার কথা বলে রাজু তাকে নিয়ে যায় কর্মস্থল মিরশ্বানীর ইসলামিয়া ব্রিকস ফিল্ডে এবং বেলাল হোসেনের একটি ঘরে রাখে।
পরদিন রাত ১০টার দিকে বেলাল ও আবুল কালাম রাজুর সঙ্গে দেখা করে। কিছুক্ষণ পর কালাম বেরিয়ে গেলে রাজু নিজের স্ত্রীর মুখ চেপে ধরে বেলালকে ধর্ষণ করতে সহায়তা করে। এরপর ১৮ অক্টোবর রাজুর দুই বন্ধু হৃদয় ও মহিনও একইভাবে ধর্ষণ করে। ২০ অক্টোবর রাতে হৃদয় আবার ধর্ষণের চেষ্টা করলে বিউটির চিৎকারে সে পালিয়ে যায়।
বিউটি বলেন,
“আমার স্বামী রাজু আমাকে হুমকি দেয়—ঘটনার কথা কাউকে জানালে আমাকে হত্যা করে লাশ গুম করবে।”
ঘটনার কথা জানতে পেরে ভুক্তভোগীর পিতা ঘটনাস্থলে আসেন এবং মেয়েকে উদ্ধার করেন। পরে তিনি মেয়েকে নিয়ে থানায় অভিযোগ করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ তৎক্ষণাৎ অভিযান চালিয়ে রাজু ও তার সহযোগীদের আটক করে।
চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন—
“ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্তদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়দের দাবি, এমন অমানবিক ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হোক, যেন আর কেউ মানবতার এমন কলঙ্কজনক কাজের সাহস না পায়।
Leave a Reply