
বিশেষ প্রতিনিধি,কুমিল্লা জেলা (উত্তর):কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সাহেবাবাদ ডিগ্রি কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠানে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতাদের উপস্থিতি এবং কলেজ অধ্যক্ষের সাথে ফটোসেশনকে ঘিরে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
সাহেবাবাদ ডিগ্রি কলেজের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার মামলার আসামি ছাত্রলীগ নেতা যুবরাজ আল দুর্জয়, রবিউল ইসলাম জয় ও ইমনকে দেখা যায়। এরা সবাই ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃস্থানীয় কর্মী এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সময়ে উপজেলার শশীদল রেলস্টেশনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় এই নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এমনকি নিষিদ্ধ সংগঠনের সাবেক সভাপতি আবু তৈয়ব অপির সাথেও তাদের নাম একাধিক সহিংসতায় জড়িত।
এ বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির বলেন,
“এরা ছাত্রলীগ করে আমি জানতাম না। কলেজের নবীন বরণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগদান করার জন্য এসেছিল। তখনই ছবি তোলা হয়।”
তবে স্থানীয়ভাবে এ ঘটনাকে আপত্তিকর এবং অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যায়িত করছেন অনেকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, “নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতাদের মঞ্চে বসিয়ে অনুষ্ঠান করা কলেজের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।”
এদিকে, ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) টমাস বরুড়া বলেন,
“আমাদের থানায় আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের নামে কোনো মামলা নেই। তবে আদালতে অনেকের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। আদালতের নির্দেশ এলে আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।”
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা জাহান বলেন,
“আমি ওই অনুষ্ঠানে যাইনি। তবে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে ছবি তোলা অবশ্যই আপত্তিকর বিষয়। এ বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষই ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।”
ঘটনার পর এলাকায় তীব্র সমালোচনা চলছে। সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বলছেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনীতির কবল থেকে মুক্ত করা না গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও বিপদে পড়বে।”
Leave a Reply