
মোঃ শফিকুল ইসলাম সোহেল,সাভার প্রতিনিধি :সাভারে চঞ্চল্যকর রানা প্লাজা ধসের রানা প্লাজার মালিক সেই সোহেল রানা মায়ের মৃত্যুর জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন। মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় উপস্থিত হয়ে মায়ের জন্য ও ধসে পড়া বহুল আলোচিত রানা প্লাজার সেই ঘটনার জন্য সকলের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। এসময় সাভার মডেল থানা পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সাভার পৌর এলাকার মাদরাসা মসজিদে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তার মায়ের জানাজায় আসেন সোহেল রানা ।
এসময় রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা উপস্থিত মুসল্লি ও এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, আমার মা’র ভুল ত্রুটির জন্য সবাই তাকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন ও তার জন্য দোয়া করবেন। সেই সাথে সবাই আমার ভুলের জন্য আমাকেও মাফ করে দিবেন।
জানা যায়, বহুল আলোচিত রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার মা মৃত মজিনা বেগম(৬৫) সাভার পৌর এলাকার বাজার রোড এলাকার মৃত আব্দুল খালেকের স্ত্রী। তিনি দীর্ঘদিন যাবত ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত ছিলেন। গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
মায়ের মৃত্যু জনিত কারণে পরিবারের পক্ষ থেকে জানাজায় উপস্থিত থাকার জন্য প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করা হয়। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে (২১ ফেব্রুয়ারি) গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে সোহেল রানাকে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে সন্ধ্যা ৬ টার দিকে পুলিশ সাভারে নিয়ে আসে। এসময় সোহেল রানা সকলের কাছে তার ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। পরে জানাজা শেষে তাকে রাত সাড়ে ৭ টার দিকে আবার গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নিয়ে যায় পুলিশ।
সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোত্তাছিম বিল্লাহ বলেন, রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা’র মায়ের মৃত্যু হয়েছে। সে কারণে মৃত্যুের স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সোহেল রানাকে তার মা’র জানাজায় নিয়ে আসা হয়েছে। পরে জানাজা শেষে সাড়ে ৭ টার দিকে সোহেল রানাকে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বহুল আলোচিত ২০১৩ সালে ২৪ এপ্রিল সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে বহুতল ভবন রানা প্লাজা ভবন ধসে পড়ে। ধসে পড়ার সেই ঘটনায় ১১৭৫ জন শ্রমিক মারা যায় ও ২০০০ এর অধিক মানুষ আহত হয় । পরে সেই ভবনের মালিক সোহেল রানাকে ২৮ এপ্রিল ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় বেনাপোল সীমান্ত থেকে আটক করা হয়েছিল। সেই থেকে সোহেল রানা বিভিন্ন মামলায় আটক আছেন।
Leave a Reply