
ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:-সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় নয়টি বীর নিবাস নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না করার প্রতিবাদে ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের ব্যানারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদির, জহুর আলী,ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ মুরাদ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের ধর্মপাশা উপজেলা শাখার সভাপতি শরফরাজ আহমেদ খান পাঠান, সাধারণ সম্পাদক মোশারফ তালুকদার প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,এই নয়টি বীর নিবাস নির্মাণ কাজটিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র নামেই রয়েছে। এটি পুরো নিয়ন্ত্রণ করছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের ছোট ভাই ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকন । তাই বীর নিবাস নির্মাণ কাজ শেষ করা নিয়ে তালবাহানা করা হচেছ। এতে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে অবমাননা করা হচেছ। দরিদ্র মুক্তিযোদ্ধারা অন্যের বাড়িতে থেকে অসহায়ের মতো পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জীবন যাপন করছেন। আগামি ১৫দিনের মধ্যে এই নয়টি বীর নিবাস নির্মাণের শতভাগ কাজ শেষ করা না হলে তারা এ নিয়ে কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে জানান। এই নয়টি বীর নিবাস নির্মাণ কাজের গড়ে ৬০থেকে ৬৫ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে অস্বচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ধর্মপাশা উপজেলার কামলাবাজ, মির্জাপুর, মুদাহরপুর,মেউহারি ও মধ্যনগর উপজেলার রৌহা, কালাগড়, বুড়িপত্তন, সুলেমানপুর গ্রামে ৯টি বীর নিবাস নির্মাণ কাজের জন্য এক কোটি ২০লাখ ৯২হাজার ৫৫৯টাকা । ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জব্বার বিল্ডার্স গত বছরের ২৮ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসব বীর নিবাস নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ওই বছরের ১৮অক্টোবার এই বীর নিবাস নির্মাণ কাজের ঠিকাদারের কার্যাদেশ ও চুক্তিনামা বাতিল এবং জামানত বাজেয়াপ্ত করে প্রশাসন। পরে ঠিকাদার ঠিকাদার উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করেন। উচ্চ আদালত চলতি বছরের ১৬মার্চ থেকে আগামি তিন মাসের জন্য ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্তের কার্যক্রম স্থগিত করেন। সেই সময়সীমা পার হয়ে গেলেও এখনো কাজ শেষ হয়নি।
ঠিকাদার মঞ্জুরুল হক সুজন বলেন, ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকন সাহেব এই নয়টি বীর নিবাসের কাজ বাবদ আমাকে এক লাখ টাকা দিয়ে তিনি কাজটি করার জন্য আমার কাছ থেকে চেয়ে নিয়েছেন। কাজটি সময়মতো শেষ না করায় আমি ব্যক্তিগত ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি এবং আমার প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকন বলেন, বীর নিবাস নির্মাণ কাজে আমার কোনো ধরণের সম্পৃক্ততা নেই। একটি মহল আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা অপবাদ রটিয়ে আমার সুনাম ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।
ধর্মপাশা উপজেল নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শীতেষ চন্দ্র সরকার সাংবাদিকদের বলেন, বীর নিবাস নির্মাণ কাজ সময় মতো শেষ না করায় ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল তা উচ্চ আদালত থেকে তিনমাসের জন্য স্থগিত করা হয়। তবে স্থগিতের সেই সময়সীমাও বেশ আগে শেষ হয়ে গেছে। নিয়ম অনুযায়ী, উপজেলা প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল এখন তাই বহাল থাকার কথা। এ সংক্রান্ত স্মারকলিপি পেয়েছি। বিষয় নিয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply