
আমজাদ হোসেন,বিশেষ প্রতিনিধি, কুমিল্লাঃ ক্রীড়াপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস, দিনব্যাপী টানটান উত্তেজনা এবং রাতের আলো ঝলমলে পরিবেশে পর্দা নামলো আসাদুজ্জামান নূর স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট (সিজন–০২)-এর। পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরদিন অনুষ্ঠিত এই আয়োজনটি পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত ক্রীড়া উৎসবে, যেখানে ফুটবলের পাশাপাশি গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলাও স্থান পায়।
৮টি দল নিয়ে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টের খেলা সকাল থেকেই শুরু হয় আসাদুজ্জামান নূর স্মৃতি উদ্যানে। নকআউট পর্ব পেরিয়ে চারটি দল সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয়। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে চারপাশে নেমে আসে নিস্তব্ধতা, আর লাইটের ঝলকানিতে জমে ওঠে সেমিফাইনালের উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই।
প্রথম সেমিফাইনালে বন্ধন দল ১-০ গোলের জয় পেয়ে নিশ্চিত করে ফাইনালের টিকিট।
দ্বিতীয় সেমিফাইনালে উল্কা দল ও স্বপ্নবাজ দলের মধ্যকার ম্যাচটি ছিল দারুণ রোমাঞ্চকর। উল্কার ৪ গোলের জবাবে স্বপ্নবাজ দলের সজিব করেন দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক। শেষ মুহূর্তে উত্তেজনা চরমে উঠলেও শেষ পর্যন্ত উল্কা দল ফাইনালে ওঠার গৌরব অর্জন করে।
ফাইনাল ম্যাচ শুরুর আগে মাঠে তৈরি হয় ভিন্ন এক আনন্দঘন পরিবেশ। গ্রামের মুরুব্বিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী ‘হাঁড়ি ভাঙা’ খেলা। চোখ বেঁধে লাঠি দিয়ে হাঁড়ি ভাঙার এই আয়োজনে দর্শকদের মাঝে সৃষ্টি হয় দারুণ উচ্ছ্বাস, যা পুরো টুর্নামেন্টকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
ফাইনাল ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বন্ধন একাদশ। রিয়াদের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর সজ্জাদের টানা আক্রমণে হ্যাটট্রিকসহ ৪-০ ব্যবধানে বড় লিড নেয় দলটি। শেষদিকে রিয়াদের জোড়া গোলে উল্কা দলের বিপক্ষে ৫-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বন্ধন ফুটবল একাদশ।
বন্ধন দলের সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন দলটির টিম ম্যানেজার আবুল খায়ের রতন ভূইয়া। তার খেলোয়াড়দের প্রতি আন্তরিকতা, দিকনির্দেশনা ও মাঠের বাইরে সার্বক্ষণিক সহায়তা খেলোয়াড়দের বাড়তি আত্মবিশ্বাস ও উৎসাহ জুগিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্কা দলের টিম ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ ফুটসাল দলের পরিচিত মুখ ফয়সাল, যিনি ‘টাওয়ার ফয়সাল’ নামেই বেশি পরিচিত।
সারাদিনব্যাপী এই আয়োজনটি ছিল উৎসবমুখর। খেলার দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সদস্য রহুল বাবু, যিনি দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে ম্যাচগুলো পরিচালনা করেন। ধারাভাষ্য দিয়ে পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলেন মো. আবুল হাসেম।
খেলার একপর্যায়ে মাঠে উপস্থিত হন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য জনাব হাসনাত আবদুল্লাহ। তার উপস্থিতি দর্শকদের মাঝে বাড়তি উচ্ছ্বাস তৈরি করে এবং পুরো মাঠে উৎসবের আমেজ আরও ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় তিনি বলেন,
“ঈদের পরের দিন এমন একটি আয়োজন সত্যিই খুব ভালো উদ্যোগ। ইয়ং জেনারেশনকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। আমাদের উচিত তৃণমূল পর্যায়ে এভাবে নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন করা।”
এছাড়া খেলায় বিভিন্ন পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। টুর্নামেন্টের সফল আয়োজনে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন ফজলে রাব্বি (এলজিডি), আবু সাদেক ভূইয়া, সাইদুর আবু বক্কর সিদ্দিক, জালাল, তানভীরসহ আরও অনেকেই।
সবমিলিয়ে, ফুটবলের উত্তেজনার পাশাপাশি গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়ে এই আয়োজন হয়ে উঠেছে এক অনন্য মিলনমেলা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা—এ ধরনের টুর্নামেন্ট ভবিষ্যতেও নিয়মিত আয়োজন করা হবে এবং তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে।
Leave a Reply