
আগের তিন জাতীয় নির্বাচনে সংবিধান লঙ্ঘন করে অনিয়মের কারণে পলাতক ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দায়িত্বে থাকা তিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ (সিইসি) মোট ১৯ জনের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) অভিযোগ দায়ের করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এরপর শেরেবাংলা নগর থানায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাতনামা আসামি রেখে মামলা দায়ের করে বিএনপি।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত আবেদন দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন খান (মামলা ও তথ্য সংরক্ষণ সমন্বয়ক) এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল রোববার (২২ জুন) সকাল সোয়া ১০টার সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে হস্তান্তর করেন। এসময় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মো. মিজানুর রহমান, মো. ইকবাল হোসেন, শরিফুল ইসলাম, নাঈম হাসান প্রমুখ।
এতে শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়াও সাবেক তিন প্রধান নির্বাচন কমিশনার, অন্যান্য কমিশনার ও সচিবসহ ১৯ জন এবং অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনে এ অভিযোগ দিয়েছে বিএনপি। তবে তালিকাটি চূড়ান্ত নয়। তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানান মো. সালাহউদ্দিন খান।
তিনি আরও জানান, যারা নির্বাচন পরিচালনা করেছেন সেসব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর আগে নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সুপারিশে নির্বাচনি জালিয়াতিতে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল।
২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের ভোট পরিচালনাকারী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে বিএনপি। মামলার আবেদনের কপি নিয়ে একটি প্রতিনিধিদল প্রথমে নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়।
তিনি বলেন, বিতর্কিত এই তিন নির্বাচনকে ঘিরে বারবার অভিযোগ করার পরও তৎকালীন সিইসি ও সংশ্লিষ্টরা কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা আশা করি বর্তমান নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে। আমরা বিএনপির মহাসচিবের এ সংক্রান্ত চিঠি জমা দিয়েছি। যেহেতু নির্বাচন ভবন আগারগাঁও এলাকায়, সেজন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করা হবে।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হয়ে যান। সেই সংসদকে ‘বিনা ভোটের সংসদ’ আখ্যা দিয়ে ভোট বর্জন করা বিএনপি।
ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ আমলে হওয়া ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে সিইসি, ইসি ও সচিবদের ভূমিকা তদন্তে কমিটি গঠনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। এরমধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে মামলার পদক্ষেপ এলো।
Leave a Reply