
মোঃ আমজাদ হোসেন,বিশেষ প্রতিনিধি:কুমিল্লা জেলা (উত্তর)
কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌর এলাকার বালিবাড়ি গ্রামে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। স্বামীর নিষেধাজ্ঞায় বিয়ের অনুষ্ঠানে যেতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন সালমা আক্তার (২৩) নামে এক গৃহবধূ। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ভুইয়া বাড়ির মজিবুর রহমান বাবুল ভুইয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সালমা আক্তার ওই গ্রামের কেফায়েতুল্লাহ রুবেল (৩৩)-এর স্ত্রী। তাদের সংসারে রাইসা (১০) ও সারামনি (৬) নামে দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। কেফায়েতুল্লাহ রুবেল কুমিল্লা ইপিজেডে চাকরি করেন।
শ্বশুর মজিবুর রহমান বাবুল ভুইয়া জানান, শুক্রবার পাশের ঘরে তার ভাই আবুল হোসেন ভুইয়ার মেয়ে তাহমিনার বিয়ে ছিল। পুত্রবধূ সালমা আক্তার বৌ সাজানো থেকে শুরু করে বিয়ের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন। কিন্তু বিয়ের কাজ শেষ করে গোসল করার পর নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। কিছুক্ষণ পর পরিবারের লোকজন ডাকাডাকি করলে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, তিনি সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছেন।
শ্বশুর বাবুল ভুইয়া দাবি করেন, “আমার সংসারে কোনো অভাব নেই, ছেলের সাথেও ঝগড়া-বিবাদ ছিল না। কেন সে আত্মহত্যা করল বুঝতে পারছি না।”
তবে নিহতের বড় মেয়ে রাইসা জানায়, সকালে তার মা-বাবার মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে মা ঘরের দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, কেফায়েতুল্লাহ রুবেলের সঙ্গে তার চাচা আবুল হোসেন ভুইয়ার সম্পর্ক ভালো ছিল না। তবুও স্ত্রী সালমা ওই বিয়ের মূল দায়িত্ব পালন করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রুবেল তাকে বিয়ের অনুষ্ঠানে যেতে নিষেধ করেন। স্বামীর এমন আচরণে ক্ষোভে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন সালমা।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুদ্দীন মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন,
“প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরেই গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, স্বামী বিয়ের অনুষ্ঠানে যেতে নিষেধ করায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
হঠাৎ করে এক গৃহবধূর এমন মৃত্যুর ঘটনায় বালিবাড়ি গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বলছেন,
“পরিবারে সুখ-সমৃদ্ধি থাকার পরও স্বামীর কথায় অপমানিত বা ক্ষুব্ধ হয়ে যদি একজন তরুণী এভাবে নিজের জীবন শেষ করে দেন, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। পরিবারের উচিত ছিল বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সমাধান করা।”
Leave a Reply