স্হানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়,এবার ৯৩৬৯ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশী এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রার উপরে।তবে বাম্পার ফলনেও এ অঞ্চলের ভুট্টা চাষীদের মনে তেমন আমেজ নেই।ক্রমাগত দর পতনের কারণে হতাশায় ভুগছেন এ অঞ্চলের চাষীরা।
স্হানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার চরাঞ্চলে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ ভুট্টার চাষ হয়, এ বছরেও ভুট্টার আবাদ ব্যাপক হয়েছে। চলতি বছর রোজার ঈদের আগে মণ প্রতি ভুট্টার দাম ছিলো ১১৫০/১২০০ যা বর্তমানে ৯৬০/৯৮০ তে নেমে এসেছে।এভাবে ক্রমাগত ভুট্টার দাম কমতে থাকায় হতাশায় ভুগছেন কৃষকরা।
দূর্গম চরাঞ্চলের অধিকাংশ কৃষক অস্বচ্ছল ও বর্গাচাষি। কেউ কেউ আবার চড়া সুদে ঋণ নিয়েও আবাদ করে।ফলে কাঙ্ক্ষিত সময়ে ফসল বিক্রি করতে না পারলে চাহিদামত লাভবান হতে পারেন না কৃষকরা।
স্হানীয় কৃষক গফুর মিয়া জানান, “আমি এ বছর চার ভাগে ৩০ বিঘা জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছি, বিঘা প্রতি ১৫/১৬ হাজার টাকা খরচ করেছি।মৌসুম শেষে ৩০/৩২ মণ হিসাবে ভুট্টা পাই,বিক্রি করে কামলা খরচ বাদে যা থাকে তা দিয়ে নিজের পরিশ্রমের দামও উঠে না অনেক সময়।
আরেক কৃষক রহিম মিয়া জানান, ভুট্টা চাষে সরকার যদি সহজ শর্তে ঋণ দিতো এবং আবাদ করা ভুট্টা মৌসুম শেষে দাম বাড়া পর্যন্ত আটকাইয়্যা রাখার ব্যবস্থা করে দিতো তাহলে আমরা কাঙ্খিত লাভ পাইতাম।
সহজ শর্তে ঋণ না পাওয়া এবং গুদামজাত করণের সুবিধা না থাকায় মৌসুম জুড়ে হাড় ভাঙা পরিশ্রম করা কৃষকের লাভের সিংহভাগ চলে যাচ্ছে রাঘব বোয়াল ব্যবসায়ী আর পাইকারদের পকেটে।
চরাঞ্চলের এসব কৃষকদের প্রত্যাশা সরেজমিনে ঘুরে সরকারি নানা সহায়তা ও সহজ শর্তে ঋণ দানের ব্যবস্থা করতে পারলেই কৃষি ও কৃষক বাঁচবে।
কাজিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, চলতি বছর ৪২০০ জন কৃষককে ভুট্টার বীজ,সার প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে নানা পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ক্রমান্বয়ে কৃষকের সমস্যা সমাধানের লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে কৃষি অফিস ও সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply