
মোঃ আমজাদ হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি (ব্রাহ্মণপাড়া), কুমিল্লা জেলা (উত্তর) কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় এক বছরে কীটনাশক ও কেড়ির ট্যাবলেট সেবন করে ২২৮ জন নারী-পুরুষ আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। এর মধ্যে নারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি।
গত কয়েকদিন পূর্বে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানবিদ মাহমুদুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, প্রেমের টানাপোড়েন, পারিবারিক কলহ, ঋণের দায়, মানসিক দুশ্চিন্তা ও স্বজনদের সঙ্গে অভিমানকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন ২২৮ জন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
থানা সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আত্মহত্যার ঘটনায় মারা গেছেন অন্তত ২২ জন। তবে বেসরকারি হিসেবে এই সংখ্যা সরকারি হিসাবের তিন থেকে চারগুণ হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী জানান, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় অধিকাংশ আত্মহত্যাকারী তরুণ-তরুণী। বিশেষ করে ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সী মেয়েরা পরিবারের সঙ্গে অভিমান করে বিষপান করছেন।
কীটনাশক সহজলভ্যতায় আত্মহত্যা বাড়ছে
সচেতন মহলের দাবি, মুদি দোকানে অবাধে কীটনাশক বিক্রি হওয়ায় তরুণ-তরুণীরা সহজেই এগুলো কিনতে পারছে। ফলে সামান্য অভিমানে বা মানসিক চাপে তারা আত্মহত্যার চেষ্টা করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় জানান, অনেক দোকানে বিক্রির অনুমতি না থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে কীটনাশক বিক্রি চলছে। এ কারণে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে।
স্থানীয়রা কর্তৃপক্ষের প্রতি অবিলম্বে অবৈধ কীটনাশক বিক্রি বন্ধ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply