
মোঃ আমজাদ হোসেন,(কুমিল্লা উত্তর জেলা) প্রতিনিধিঃ
চার বছরের শিশু হোসাইনের মুখে এখন অমলিন হাসি। দীর্ঘ আট মাস পর সে ফিরে পেয়েছে তার প্রিয় মায়ের কোল। তবে এই আনন্দের মুহূর্তে কষ্টের এক দীর্ঘশ্বাস—হোসাইনের নানী মনোয়ারা বেগম এখনো মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ঢাকার একটি হাসপাতালের আইসিইউতে।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উড়িরচরের বাসিন্দা হোসাইন। তার বাবা আলমগীর হোসেন চট্টগ্রামে অবস্থান করতেন। হঠাৎ করেই তিনি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান এবং দ্বিতীয় সংসার গড়ে তোলেন। এ খবরে হতাশ হয়ে মা জরিনা সন্তানকে নিয়ে ট্রেনে চড়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন, কিন্তু ভুল ট্রেনে উঠে পড়ায় যাত্রা বিভ্রান্ত হয়। লাকসাম রেলস্টেশনে তিন অপহরণকারী হোসাইনকে মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে ফেলে।
ছেলেকে হারিয়ে জরিনা দিশেহারা হয়ে পড়েন। পরে পুলিশের সহায়তায় ২০২৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর হোসাইনকে কুমিল্লার দেবিদ্বার সরকারি শিশু পরিবারে আশ্রয় দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘ আট মাস কেটেছে তার নিঃসঙ্গতায়।
এক সময় সংবাদ মাধ্যমের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে হোসাইনের ছবি ও পরিচয়। স্থানীয় সাংবাদিক মো. আক্তার হোসেন, পারভেজ, আনোয়ার, আবু বকর ও মারুফের প্রচেষ্টায় অবশেষে ১ আগস্ট সন্ধান মেলে হোসাইনের পরিবারের।
কিন্তু দুর্ভাগ্য এখানেই শেষ হয়নি। ৩ আগস্ট হোসাইনের মা জরিনা, নানী মনোয়ারা বেগম ও মামা অলিউল্লাহ দেবিদ্বারে ছেলেকে নিতে যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। একই গাড়িতে থাকা ওমান ফেরত প্রবাসী মো. ইব্রাহিম ঘটনাস্থলেই মারা যান। তার ছোট বোন ফারজানাও গুরুতর আহত হয়ে এখন ঢাকার রাজারবাগ বি-বারাকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হোসাইনের মা জরিনা বলেন, “সাংবাদিকদের সহযোগিতায় আমি আমার সন্তানকে ফিরে পেয়েছি। তারাই আমার মায়ের চিকিৎসার খরচ বহন করছেন। আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ।”
৬ আগস্ট বুধবার, কুমিল্লা মেডিকেল থেকে সুস্থ হয়ে মায়ের কোলে ফিরে আসে হোসাইন। দেবিদ্বার সরকারি শিশু পরিবারে তাকে ফিরিয়ে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল হাসনাত খান, উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। আবেগঘন সেই মুহূর্তে চারপাশ কেঁপে ওঠে শিশুর নিঃসন্দেহ ভালোবাসায়।
দেবিদ্বার শিশু পরিবারের তত্ত্বাবধায়ক বরুণ চন্দ্র দে বলেন, “হোসাইন খুবই শান্ত ও মেধাবী ছেলে। আট মাস আমাদের সঙ্গে ছিল। আজ তাকে পরিবারের হাতে তুলে দিতে পেরে আমরা গর্বিত।”
দেবিদ্বার ইউএনও বলেন, “এই ঘটনা সমাজের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আমরা হোসাইনের পরিবারের পাশে আছি এবং থাকবো।
Leave a Reply